৮৩ রানে ৭ উইকেট থেকে বিশ্বরেকর্ড! আমদাবাদে প্রোটিয়াদের উড়িয়ে দিলেন হোল্ডার-শেফার্ড

ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে কার্যত ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে বিশ্বরেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একসময় মনে হচ্ছিল ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস একশো রানও ছুঁতে পারবে না, কিন্তু সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন জেসন হোল্ডার ও রোমারিও শেফার্ড। অষ্টম উইকেটে তাঁদের ৮৯ রানের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ এখন আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশ্বরেকর্ড।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রোটিয়া বোলারদের দাপটে মাত্র ৮৩ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিলেন ৭ জন টপ অর্ডার ব্যাটার। অধিনায়ক শাই হোপ (১৬), সিমরন হেটমায়ার (২) বা রোভম্যান পাওয়েল (৯)—কেউই দাঁড়াতে পারেননি। এনরিক নখিয়া ও কাগিসো রাবাদার আগুনে বোলিংয়ে নাজেহাল অবস্থা ছিল ক্যারিবিয়ানদের। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় হোল্ডার ও শেফার্ড ক্রিজে আসার পর।

মাত্র ৫৭ বলে ৮৯ রানের অবিস্মরণীয় জুটি গড়েন এই দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটার। রোমারিও শেফার্ড ৩৭ বলে ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন, যাতে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যদিকে, জেসন হোল্ডার দুর্ভাগ্যবশত ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে খেলেন ৩১ বলে ৪৯ রানের লড়াকু ইনিংস। এই দুইয়ের ব্যাটে চড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো জেনসেন ও কেশব মহারাজদের পাড়ার বোলারে পরিণত করে মোট ৭টি বিশাল ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তাঁরা।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে নখিয়া ৩০ রানে ৩টি এবং রাবাদা ২২ রানে ২টি উইকেট নিলেও শেষদিকের মারে তাঁদের বোলিং বিশ্লেষণ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। তবে এই ম্যাচের ফলাফল ভারতীয় সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাণিতিক বিচারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ম্যাচ জিতে গেলে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মার্করাম ও মিলাররা এই বিশাল রান তাড়া করে জিততে পারেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেট দুনিয়া।