রাস্তা তৈরির দুর্নীতির প্রতিবাদ করতেই বিবস্ত্র করে গাছে বেঁধে মার! মেদিনীপুরের ঘটনায় কাঁপছে দেশ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠাই কি তবে কাল হলো? পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে এক মহিলাকে গাছে বেঁধে, বিবস্ত্র করে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনায় শিউরে উঠছে রাজ্যবাসী। স্থানীয় একটি রাস্তা তৈরির কাজে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ওই মহিলার ওপর এই অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাঁর ওপর এই নারকীয় হামলা চলছিল, তখন সেখানে উপস্থিত ছিল তাঁর নাবালিকা মেয়েও। নিজের মায়ের ওপর এমন পাশবিকতা দেখে স্তম্ভিত সেই শিশুটিও।

এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লির জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। কমিশন এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি কড়া বিবৃতি জারি করে জাতীয় মহিলা কমিশন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। কমিশনের মতে, একজন মহিলার ওপর এই ধরনের লিঙ্গ-ভিত্তিক হিংসা ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৫, ২১ এবং ২৩ নম্বর ধারার চরম পরিপন্থী। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং একজন মহিলার আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মৌলিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা।

জাতীয় মহিলা কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় FIR দায়ের করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার দাবিও জানানো হয়েছে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যাতে সমস্ত ডাক্তারি পরীক্ষা, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ অত্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা হয়। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চার্জশিট জমা দিয়ে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে বিচার চালানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে রাজ্য কর্তৃপক্ষকে একটি বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে NCW।

উল্লেখ্য, জাতীয় মহিলা কমিশন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের ওপর হওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সক্রিয়। সম্প্রতি তেলেঙ্গানার মুলুগু জেলার মেদারাম গ্রামে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার গুজব ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনাতেও কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ করে সত্য উদঘাটন করেছিল। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঘটনাটি কোনো গুজব নয়, বরং বাস্তব এক মর্মান্তিক চিত্র যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কেন একজন মহিলাকে জনসমক্ষে বিবস্ত্র হতে হবে, সেই বিচার চেয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।