ভোপালে চাকরি দেওয়ার নামে যৌনচক্র ও ধর্মান্তরের ফাঁদ! গ্রেফতার দুই বোনসহ ৪ খলনায়ক

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক হাড়হিম করা অপরাধচক্রের হদিশ পেল পুলিশ। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গরিব পরিবারের তরুণীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং যৌনপাচারের অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে দুই বোন—আমরিন ও আফরিন। এছাড়াও তাদের ভাই জামাল এবং সহযোগী চন্দন যাদবকে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে। তবে এই চক্রের আরও দুই পাণ্ডা জান্নাত ও ইয়াসির এখনও পলাতক।
যেভাবে চলত এই ভয়ংকর অপারেশন: পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অপারেশন চালাত। মূলত আর্থিক অভাব অনটনে থাকা পরিবারের মেয়েদের টার্গেট করা হতো। তাদের গৃহকর্মীর কাজ, মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে নিজেদের ডেরায় নিয়ে আসত দুই বোন আমরিন ও আফরিন। এরপর শুরু হতো আসল খেলা। তরুণীদের বিভিন্ন অভিজাত পার্টি, পাব ও লাউঞ্জে নিয়ে গিয়ে ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ, বাধা দিলে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
এক নির্যাতিতা তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, ভালো কাজের নাম করে তাঁকে সুদূর গুজরাতে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতন চালানো হয়। অন্য এক গৃহকর্মী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বারংবার ধর্ষণ করেছে চন্দন যাদব। এফআইআর-এ (FIR) আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্যাতিতাদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও চলেছে। ধৃতদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পুলিশ একাধিক রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং প্রচুর তরুণীর ছবি উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বড় মাপের আন্তঃরাজ্য নারী পাচার চক্র। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত রয়েছে, তার সন্ধানে তল্লাশি জারি রেখেছে ভোপাল পুলিশ।