মাসে ১৫০০ টাকা নিশ্চিত! নবান্নের ‘যুবসাথী’ ম্যাজিকে কুপোকাত বেকারত্ব, নাম নথিভুক্ত করার শেষ সুযোগ আজ

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ‘যুবসাথী’ (Yuvasathi Scheme) প্রকল্প ঘিরে এখন তুঙ্গে উন্মাদনা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মাত্র ৯ দিনেই জমা পড়েছে প্রায় ৭৭ লক্ষ আবেদন। আজ, ২৬ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণের নির্ধারিত শেষ দিন। তবে যে হারে আবেদনের পাহাড় জমছে, তাতে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে যে আবেদন জানানোর সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
আবেদনের পাহাড় ও জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান:
নবান্নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মোট ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, জেলাগুলির মধ্যে আবেদনের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এর ঠিক পরেই পাল্লা দিচ্ছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাস বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার।
বাজেট থেকে বাস্তবায়ন: দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে প্রকল্প
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। প্রথমে ১৫ আগস্ট থেকে এটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন যে, ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হবে। সেই লক্ষ্যেই ১৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছিল।
স্বনির্ভর বাংলা শিবিরেও উপচে পড়া ভিড়:
শুধু ‘যুবসাথী’ নয়, রাজ্যজুড়ে চলা ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরেও তিল ধারণের জায়গা নেই। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসিক বরাদ্দ ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করায় মহিলাদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। বছরে ১৮ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় ফর্ম পূরণের হিড়িক লেগেছে। পাশাপাশি ভূমিহীন কৃষকরাও এই শিবিরগুলি থেকে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন। অনলাইনের পাশাপাশি সশরীরে উপস্থিত হয়েও আবেদন জানানোর সুযোগ থাকায় ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এখন দেখার, আজ শেষ দিনে আবেদনের সময়সীমা নিয়ে নবান্ন নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করে কি না।