‘কপালে দুঃখ আছে!’ হাওড়াকাণ্ডে তৃণমূলেরই সাংসদের বিস্ফোরক হুঁশিয়ারিতে তোলপাড় রাজ্য

হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে ‘শাসক-যোগের’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের দলের বিরুদ্ধেই কার্যত ‘সতর্কবাণী’ শোনালেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর সাফ কথা, “বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না করলে কপালে দুঃখ আছে।”
বিধায়কের বাইকে খুনে অভিযুক্ত! ভাইরাল ভিডিওতে অস্বস্তি
হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে এই খুনের প্রধান অভিযুক্ত হারুন খানের একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিধায়কের বাইকের পিছনে বসে রয়েছে অভিযুক্ত হারুন। অন্য একটি ভিডিওতে তাদের একসঙ্গে হাঁটতেও দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের নজর এড়িয়ে এই দুষ্কৃতীরা কীভাবে শাসকদলের নেতাদের এত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে? এই ‘সখ্যতা’র কারণেই কি পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে আছে?
সৌগতর কড়া বার্তা: ‘আমি বাহুবলীদের গাড়িতে তুলি না’
দলের একাংশের নেতার দুষ্কৃতী-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সৌগত রায়। তিনি বলেন, “আমি বাহুবলীদের ওপর ভরসা করি না, তারা ভোটে কাজে লাগে না। বাহুবলী যেদিকে যায়, সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে যায়। আমি কখনও তাদের গাড়িতে তুলি না বা তাদের হয়ে তদ্বির করি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সুবিধাবাদের এই রাজনীতি বন্ধ না হলে নাগরিক সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফল ভোগ করতে হবে সব রাজনীতিবিদকেই।
কাঁকুলিয়া থেকে হাওড়া: ভয়ে সিঁটিয়ে সাধারণ মানুষ
শুধু হাওড়া নয়, কাঁকুলিয়াতেও দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। সেখানেও শাসক নেতার সঙ্গে অভিযুক্তের ছবি সামনে এসেছে। একের পর এক শুটআউট এবং বোমাবাজির ঘটনায় যখন সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, তখন সৌগত রায়ের এই ‘স্বীকারোক্তি’ এবং ‘সতর্কবাণী’ রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল ও অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।