এয়ারহোস্টেস প্রেম ফেরাতেই বিমানে বোমাতঙ্ক! মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর কাণ্ডে হুলুস্থুল মাঝ আকাশে

সম্প্রতি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবাগুলিতে একের পর এক ভুয়ো বোমাতঙ্ক (Bomb Threat) উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বোমাতঙ্কের নেপথ্যে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। তদন্তে জানা গিয়েছে, কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী নয়, বরং প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
শৌচালয়ে চিরকুট ও আতঙ্ক
জেট এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটের শৌচালয়ে একটি টিস্যু পেপার উদ্ধার করেন বিমানকর্মীরা। সেখানে হাতে লেখা ছিল— বিমানে বোমা রাখা আছে। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তড়িঘড়ি বিমান নামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে চিরুনি তল্লাশি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাগ ও কোণ পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে বিমানটি যেমন চার ঘণ্টা বিলম্বে উড়েছিল, তেমনই এয়ারলাইন্স সংস্থাকেও বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
প্রেমে প্রত্যাখ্যানই মূল কারণ
তদন্তে নেমে নিরাপত্তা আধিকারিকরা মুম্বইয়ের এক নামী ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেন। তাঁকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। জানা যায়, ওই ফ্লাইটের এক এয়ারহোস্টেসকে পছন্দ করতেন তিনি। শুধু পছন্দই নয়, তাঁকে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু ওই বিমানসেবিকা তাঁর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের দম্ভে আঘাত লাগায় ক্ষুব্ধ ওই ব্যবসায়ী এয়ারহোস্টেসকে বিপদে ফেলতে এবং এয়ারলাইন্সের কাজ ব্যাহত করতে শৌচালয়ে ওই ভুয়ো চিরকুটটি রেখে আসেন।
ধরা পড়তেই প্রকাশ পেল দুঃখ
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিমানে বা বিমানবন্দরে বোমার খবরের প্রায় ৯৯ শতাংশই ভুয়ো হয়। তবুও যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যায় না বলে প্রতিটি ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করা হয়। ধরা পড়ার পর ওই ব্যবসায়ী নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো এবং আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে।
সাধারণত ব্যক্তিগত ক্ষোভ, ব্যবসায়িক শত্রুতা বা স্রেফ মজার ছলে অনেকে এই কাজ করলেও, এয়ারলাইন্স কর্মীরা সচরাচর সংস্থার ক্ষতি করতে এমন কাজ করেন না। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, ব্যক্তিগত আবেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীনতাও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।