“গুজরাটি-মাড়োয়ারি ভাইবোনেদের সাথে আমার ঝগড়া হয় না!” ভোটের মুখে ভবানীপুরে বড় বার্তা মমতার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে ফের ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে জৈন ধর্মের একটি পবিত্র প্রার্থনা স্তম্ভ বা ‘মানস স্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কেন্দ্রকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “ভবানীপুরে বহু ভাষাভাষী মানুষ মিলেমিশে থাকেন। কেউ এখানে মাড়োয়ারি, কেউ গুজরাটি, কেউ বা পাঞ্জাবি—কিন্তু সবার সাথেই আমার আত্মিক সম্পর্ক।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, জৈন ধর্মের সাথে বাংলার যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর। বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলার জৈন মন্দির থেকে শুরু করে পরেশনাথ মন্দিরে তাঁর সফরের স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন। এমনকি অবলীলায় গুজরাটি ভাষায় ‘কেম ছো’ (কেমন আছেন?) বলে উপস্থিত দর্শকদের সাথে ভাববিনিময় করেন তিনি। মমতা বলেন, “অন্য রাজ্যে বাঙালির ওপর আক্রমণ হলেও, বাংলায় সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ। আমি চাই অহংকার ছেড়ে মানুষের সেবা করতে, আর এই মানস স্তম্ভ সেই অহংকার ত্যাগেরই প্রতীক।”

সামনেই দোল ও হোলি। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বেশ খোশমেজাজে দেখা যায়। তিনি ঘোষণা করেন, এবার বড় করে হোলি উৎসব পালন করবেন এবং সেখানে ডান্ডিয়া খেলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। উপস্থিত মাড়োয়ারি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে স্মিত হাস্যে তিনি বলেন, “আমি ডান্ডিয়া খেলব, আমার জন্য ডান্ডিয়া নিয়ে আসবেন তো?” রমজান মাস চলায় সবাইকে শান্তিতে থাকার বার্তাও দেন তিনি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, নির্বাচনের আগে ভবানীপুরের হিন্দিভাষী ও জৈন ভোটারদের মন জয় করতেই মমতার এই বিশেষ জনসংযোগ।