৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য এবার সুপ্রিম কোর্টে! হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লিতে মামলা

২০১৪ সালের টেট (TET) ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে আইনি লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের শীর্ষ আদালতে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখার রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ‘স্পেশাল লিভ পিটিশন’ (SLP) দায়ের করলেন মূল মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘মানবিকতার’ খাতিরে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই চাকরিগুলিকে বৈধতা দিয়েছে, যা আইনত সঠিক নয়।

নিয়োগ মামলার এই টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে। তিনি ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্টে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে এই ৩২ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্ত চলাকালীন গণ-ছাঁটাই সম্ভব নয় এবং একসঙ্গে এতজনের রুজি-রোজগার কেড়ে নেওয়ার মতো ‘ব্যাপক অনিয়ম’ ঘটেনি।

মামলাকারীরা এখন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে চলেছেন যে, যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ স্পষ্ট, সেখানে মানবিকতা বিচার্য হতে পারে না। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই আইনি আক্রমণ আঁচ করে আগেই সুপ্রিম কোর্টে ‘ক্যাভিয়েট’ দাখিল করে রেখেছে। অর্থাৎ, পর্ষদের বক্তব্য না শুনে শীর্ষ আদালত কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে পারবে না। আগামী সপ্তাহেই এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্ধারণ করবে এই হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ।