বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা শেষ! সবংয়ে রাজ্যের প্রথম সোলার টিউবওয়েল, চাষিদের মুখে চওড়া হাসি

কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন আনতে এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসার ঘটাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের দেবভোগ এলাকায় চালু হলো রাজ্যের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ চালিত মিডিয়াম ডিপ টিউবওয়েল (MDTW) প্রকল্প। মঙ্গলবার রাজ্যের জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার উপস্থিতিতে এই পাইলট প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক সাফল্য ঘোষণা করা হয়। মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় সেচের জলের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতেই এই অভিনব উদ্যোগ।

এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিকটি অত্যন্ত আধুনিক। মোট ৪৩ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ অশ্বশক্তির (HP) একটি শক্তিশালী সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। এটি সচল রাখতে ৩৬টি সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা থেকে প্রায় ১৯,৮০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। ফলে চড়া রোদেও বিনা খরচে এবং কোনো দূষণ ছাড়াই জমিতে জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের আর দামি ডিজেল বা চিরাচরিত বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলেন স্থানীয় আদিবাসী কৃষকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৩৫৮ জন কৃষকের মধ্যে ৩০০ জনই তফসিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের। বর্তমানে ১৩০ বিঘা জমিতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে জল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ বিঘা জমিতে ধান, ৪০ বিঘায় রজনীগন্ধা এবং ৩০ বিঘা জমিতে শাকসবজির ফলন হচ্ছে। ডিজেলে খরচ বাড়ার কারণে কৃষকদের লাভের অঙ্ক যে কমে যাচ্ছিল, এই সৌর সেচ প্রকল্প সেই সমস্যা এক ঝটকায় সমাধান করে দিয়েছে।

মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া জানান, এটি একটি পথপ্রদর্শক প্রকল্প। সবংয়ের এই সাফল্য দেখে আগামীদিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আরও বড় পরিসরে সৌর সেচ ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই সুন্দরবনে ড্রিপ ইরিগেশন এবং নদিয়ায় লাইট ডিউটি টিউবওয়েল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি— এই দুই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার এখন ‘সৌর বিপ্লব’-এর পথে হাঁটছে।