‘কেম ছো’ থেকে মহাবীর জৈন— ভবানীপুরের মঞ্চে সম্প্রীতির বার্তা মমতার, সংখ্যালঘু উন্নয়নে বড় ঘোষণা

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে জোয়ার আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান থেকে তিনি প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। একইসঙ্গে রাজ্যের সাড়ে ১২ লক্ষ স্কুলপড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার ‘সবুজ সাথী’ কর্মসূচির নতুন পর্যায়ের সূচনা করেন তিনি।
স্বাস্থ্যে বড় বিনিয়োগ: এদিন মুখ্যমন্ত্রী রামপুরহাট, ডায়মন্ড হারবার এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একাধিক ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব’-এর উদ্বোধন করেন। এছাড়াও ফুরফুরা শরিফে ১০০ শয্যার হাসপাতাল এবং আলিপুরদুয়ারে ৫০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লকের সূচনা হয়েছে। গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালেও চালু হয়েছে নতুন মাতৃ ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র।
পরিকাঠামো ও পরিবহণ: পরিবহণ ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব বদল আনতে ১২০টি নতুন সিএনজি (CNG) বাসের উদ্বোধন করেন মমতা। পরিকাঠামো উন্নয়নে বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর নদীর ওপর নতুন সেতু এবং রাজ্যজুড়ে ১০১টি ফাস্ট ড্রাইভ স্কিমের সূচনা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে কলকাতা পুলিশের বিজয়গঞ্জ বাজার এবং উলুবেড়িয়া থানার নতুন ভবনেরও উদ্বোধন হয়।
সম্প্রীতির বার্তা: অনুষ্ঠানে জৈন, শিখ, মুসলিম ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন। সল্টলেকে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘মাইনরিটি সেন্টার’ তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের সঙ্গে বর্ধমান জেলার ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মহাবীরের বাল্যনাম ছিল বর্ধমান, সেখান থেকেই জেলার নাম হয়েছে।” তাঁর কথায় ফুটে ওঠে সর্বধর্ম সমন্বয়ের ছবি— “গুজরাতিরা বলেন ‘কেম ছো’, আমরা বলি ‘কেমন আছো’। ভাষা আলাদা হলেও আমাদের ভাবটা একই।”