জমি মাফিয়াদের দাপট শান্তিনিকেতনে! হেরিটেজ সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কংক্রিটের জঙ্গল রুখতে ময়দানে প্রশাসন

শান্তিনিকেতনের ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব ঐতিহ্য তকমা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিল বোলপুর পুরসভা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাফার জোনে নিয়মবহির্ভূতভাবে কংক্রিটের নির্মাণকাজ চলার অভিযোগ পেয়ে বুধবার তড়িঘড়ি অভিযান চালান পুরসভা ও শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের (SSDA) আধিকারিকরা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের আপত্তির জেরে এদিন শ্রীপল্লী এলাকায় একটি বৃহৎ নির্মাণকাজ নোটিশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই কড়াকড়ি? ২০২৩ সালে ইউনেস্কো শান্তিনিকেতনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। এই মর্যাদা ধরে রাখার জন্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) ও ইউনেস্কোর নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। হেরিটেজ সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে ‘বাফার জোন’-এ কোনো বড় কংক্রিটের নির্মাণ বা বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা নিষিদ্ধ। অথচ অভিযোগ উঠেছে, শ্রীপল্লী এলাকায় রাজ্য সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই পুতুল দেবী ও কাঞ্চন দেবী নামে দুই ব্যক্তি বড়সড় বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ চালাচ্ছিলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা: বোলপুর পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার বাপি বীরবংশী জানিয়েছেন, পুরসভার চেয়ারপার্সনের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা হেরিটেজ রক্ষায় দায়বদ্ধ। তাই কোনো অনুমতি ছাড়া নির্মাণ কাজ চলতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, হেরিটেজ বাফার জোনে যা খুশি নির্মাণ করা যাবে না। হেরিটেজ তকমা ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
আগেও ঘটেছে একই ঘটনা: শান্তিনিকেতনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় লজ, হোটেল বা রেস্তরাঁ তৈরির হিড়িক পড়েছে। এর আগে রবীন্দ্রনাথের বড়দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি ‘দ্বিজবিরাম’-এর কাছেও একটি রেস্তরাঁ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল, যা বিশ্বভারতীর আপত্তিতে বন্ধ করে দেয় পুরসভা। জমি মাফিয়াদের হাত থেকে কবিগুরুর স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনের আদি রূপ রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।