মাদ্রাসা কি সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর? নীতেশ রানের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়, নজরদারির প্রস্তাব মুসলিম বিধায়কের

রমজান মাসের আবহে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও পৌর নিগমের বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মীদের নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানের সাম্প্রদায়িক কটাক্ষের পাল্টা দিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ বিধায়ক আবু আজমি। মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরির অভিযোগ নস্যাৎ করে আজমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, সরকার চাইলে প্রতিটি মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে নজরদারি চালাতে পারে।

বিবাদের সূত্রপাত: সম্প্রতি মালেগাঁও বিদ্যুৎ দফতরের অফিসের ভেতরে কয়েকজন মুসলিম কর্মীর নামাজ পড়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এর প্রেক্ষিতে হিন্দুত্বের জিগির তুলে নীতেশ রানে বলেন, “মসজিদ থাকতে অফিসের ভেতরে নামাজ পড়া যাবে না। এটা হিন্দু রাষ্ট্র।” তিনি ওই সরকারি কর্মীদের ‘জিহাদি’ বলে সম্বোধন করেন এবং দাবি করেন যে ভারতের মাদ্রাসাগুলোতে জঙ্গি তৈরি হচ্ছে। এমনকি শিশুদের মারধর করার অজুহাতে মাদ্রাসা বন্ধের দাবিও তোলেন তিনি।

আবু আজমির পাল্টা চ্যালেঞ্জ: রানের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবু আজমি বলেন, “ভারতের কোনো মাদ্রাসায় জঙ্গি কার্যকলাপ হয় না। আপনাদের সন্দেহ থাকলে মাদ্রাসায় সিসিটিভি লাগাতে পারেন। এমনকি মাদ্রাসার ভেতরে আপনাদের থাকার জন্য ঘর এবং খাবারও দেওয়া হবে, আপনারা থেকে পরীক্ষা করুন। আমি নিশ্চিত, আপনারা কোনো বেআইনি কার্যকলাপ খুঁজে পাবেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রানে কেবলমাত্র মুসলিমদের অপমান করার জন্যই মন্ত্রী হয়েছেন।

নামাজ ও সংবিধান: অফিসে নামাজ পড়া প্রসঙ্গে আজমি সাফ জানান, নামাজ যে কোনো পরিষ্কার জায়গায় পড়া যায় এবং নামাজের সময় নির্ধারিত। ভারতের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে, তাই এতে আপত্তির কিছু নেই। আপাতত এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে হিন্দুত্ব বনাম ধর্মীয় স্বাধীনতার লড়াই তীব্র আকার নিয়েছে।