সুপ্রিম কোর্টে ঐতিহাসিক জয়! এবার ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনেও ডিএ আদায়ের হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারি কর্মীদের

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় ছিনিয়ে নিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, কর্মচারীদের ১০০% বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। এই জয়ের পরই রাজ্যজুড়ে সরকারি মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এখানেই থামতে নারাজ কর্মচারীরা; পঞ্চম পে কমিশনের এই রায়কে অস্ত্র করে এবার ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনেও ডিএ সুনিশ্চিত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

আইনি অধিকার বনাম দয়ার দান:
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় একটি শক্তিশালী আইনি নজির হিসেবে কাজ করবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়ার দান নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের একটি ‘বলবৎযোগ্য আইনি অধিকার’। সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (AICPI) অনুযায়ীই ডিএ প্রদান করতে হবে।

ষষ্ঠ ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ক্ষোভ:
পঞ্চম বেতন কমিশনের মামলায় জয় মিললেও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে ক্ষোভ কমেনি কর্মচারীদের। অভিযোগ উঠেছে, ষষ্ঠ পে কমিশনে ডিএ-কে আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে রাজ্য সরকারের ‘ইচ্ছাধীন’ বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা হলেও, সেখানেও ডিএ-কে অধিকারের মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান একাংশ।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
মলয় মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালত যেহেতু ডিএ-কে আইনি অধিকার হিসেবে মান্যতা দিয়েছে, তাই এই নীতি যাতে ষষ্ঠ এবং নবঘোষিত সপ্তম বেতন কমিশনেও কার্যকর হয়, তার জন্য তাঁরা সবরকম পদক্ষেপ করবেন। প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ ব্যবধান ঘুচিয়ে অবিলম্বে স্বচ্ছতার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে।