“বিচারপতিরাও সুরক্ষিত নন, বাংলা অপরাধীদের আঁতুড়ঘর!” মমতার সরকারকে তুলোধোনা শমীকের

রাজ্যের বর্তমান বিচারব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখন প্রশাসন বলে কিছু নেই, পুরোটাই ‘তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যখন বিচারপতিদের দিয়ে এসআইআর (SIR) কাজ করানোর নির্দেশ দেয়, তখনই প্রমাণিত হয় যে রাজ্যের আধিকারিকদের ওপর শীর্ষ আদালতের কোনও আস্থা নেই।
বিচারপতিদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা:
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিচারপতিরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের ভিন রাজ্য থেকে আনতে হচ্ছে। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে?” তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের আমলারা সাধারণ মানুষের হয়ে নয়, বরং তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছেন। মুখ্যসচিব বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মনোবল বাড়াচ্ছেন যে সরকার পরিবর্তন হবে না— যা একজন নিরপেক্ষ আমলার থেকে কোনওভাবেই কাম্য নয়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে জামিন না দেওয়ার জন্য।
ভোটার তালিকা ও এসআইআর বিতর্ক:
বিজেপি নেতার সাফ কথা, “ত্রুটিমুক্ত ভোটার লিস্ট দিতে না পারলে ভোট হবে না। নো এসআইআর, নো ভোট!” তিনি দাবি করেন, দেশের আরও ১১টি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বিডিও অফিসে আগুন, বিএলও-দের ভীতি প্রদর্শন এবং ফলস ডকুমেন্ট আপলোডের মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি অনুরোধ করেন যেন তিনি নিজে এসে মুর্শিদাবাদ, ডোমকল এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতি চাক্ষুষ করেন।
সংখ্যালঘু ও রাজ্য নিরাপত্তা:
রাজ্যকে ‘অপরাধীদের আঁতুড়ঘর’ বলে কটাক্ষ করে শমীক জানান, আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠন এরাজ্যের মাটি ব্যবহার করে নাশকতার ছক কষছে। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁরা তৃণমূলের প্ররোচনায় পা না দেন। গুজরাটের মুসলমানদের সঙ্গে এরাজ্যের মুসলমানদের উন্নয়নের তুলনা টেনে তিনি বলেন, “আপনারা ভোট না দিলেও বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, তাই তৃণমূলের উস্কানিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না।”