২০৩০ সালেও কি মোদীই থাকছেন পিএম? ফড়নবীসের এক বিস্ফোরক ভবিষ্যৎবাণীতে তোলপাড় দেশ!

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কী হতে চলেছে? ২০৩০ সালেই বা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে কাকে দেখা যাবে? এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক অত্যন্ত সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যৎবাণী করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। আগ্রা ফোর্টে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০৩০ সালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীই উপস্থিত থাকবেন।

আগ্রা ফোর্টে শিবাজি মহারাজের ৩৯৬তম জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফড়নবীস বলেন, “২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী বিপুল জনসমর্থন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবেন। আর ২০৩০ সালে যখন ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের ৪০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হবে, তখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীজি নিজেই আগ্রা ফোর্টে এসে শিবাজির স্মারক উদ্বোধন করবেন।”

ফড়নবীসের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, এটি কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং ২০২৯-এর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিজেপির চরম আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ফড়নবীস জানান, মহারাষ্ট্র সরকার উত্তরপ্রদেশ সরকারের সহযোগিতায় আগ্রা ফোর্টে শিবাজি মহারাজের একটি বিশাল স্মারক বা ‘গ্র্যান্ড মেমোরিয়াল’ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগ্রা ফোর্ট সেই জায়গা যেখানে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব শিবাজি মহারাজকে বন্দি করেছিলেন। কিন্তু নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসে ভর করে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফড়নবীসের মতে, “আজকের নতুন ভারতে মুঘলদের কোনো স্থান নেই। কোনো রাস্তা বা মূর্তিতে আর মুঘলদের নাম রাখা হবে না। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা, যেখানে শিবাজি মহারাজের ‘স্বরাজ্য’ এবং ‘রায়তের রাজ্য’ প্রতিষ্ঠার আদর্শ মোদীজির নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।”

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে যেখানে মারাঠা ইতিহাস মাত্র একটি অনুচ্ছেদে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা ২০ পৃষ্ঠায় পড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে শিবাজির শাসনব্যবস্থা ও বীরত্বের কাহিনী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফড়নবীসের এই বার্তা স্পষ্ট—বিজেপি কেবল উন্নয়ন নয়, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দুত্ববাদী আইকনদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। ২০২৯-এ মোদীর প্রত্যাবর্তন এবং ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ফড়নবীস কার্যত বিরোধীদের কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।