“সংসদে ওরা জয় শ্রীরাম বললে আমি পাল্টি দিই!” ধর্ম বনাম রাজনীতি ইস্যুতে ফের বিস্ফোরক শ্রীরামপুরের সাংসদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। কথা হওয়ার কথা ছিল ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে। কিন্তু শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উঠলে সেখানে রাজনীতির ছোঁয়া লাগবে না, তা একপ্রকার অসম্ভব। শনিবার শ্রীরামপুরের রায়ঘাটের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নাম না করে বিজেপি-র ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে কার্যত তুলোধনা করলেন তিনি। কল্যাণের সাফ কথা, নারীকে সম্মান না দিয়ে রামের উপাসনা অধরা। তাই তাঁর সওয়াল— ‘জয় শ্রীরাম’ নয়, বলতে হবে ‘জয় সীয়া রাম’।

নারীশক্তির পক্ষে সওয়াল: সংসদের অভিজ্ঞতার কথা টেনে কল্যাণ বলেন, “পার্লামেন্টে গেলেই ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়। আমি তখনই প্রতিবাদ করে বলি, জয় শ্রীরাম কেন হবে? জয় সীয়া রাম কেন হবে না? আগে সীতা, তারপর রাম।” তাঁর মতে, রামের আগে সীতার নাম থাকাটাই ভারতীয় সংস্কৃতির আসল পরিচয়। নারী শক্তিকে অগ্রাহ্য করে কোনো আরাধনা পূর্ণ হতে পারে না বলেই দাবি করেন তিনি।

আবেগে ভাসলেন কল্যাণ: এদিন বক্তৃতার মাঝেই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দাপুটে এই নেতা। তিনি জানান, তাঁর দেশপ্রেম ও ধর্মীয় চেতনার ভিত তৈরি হয়েছিল তাঁর ঠাকুমার হাত ধরেই। ঠাকুমার গাওয়া দেশাত্মবোধক গান শুনেই তিনি ক্ষুদিরাম বসুকে ভালোবাসতে শিখেছেন। তিনি বলেন, “আমার মা-ই আমার সব। তাঁর আশীর্বাদেই আমি আজ এখানে। ধর্ম মানেই হলো নারী সম্মান।”

রাজনৈতিক সমীকরণ: পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে সুকৌশলে বিজেপি-র ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে প্রতিহত করতে চাইছেন কল্যাণ। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে টেক্কা দিতে ‘জয় সীয়া রাম’-এর দাওয়াই দিয়ে তিনি একদিকে যেমন শাস্ত্রীয় যুক্তি সাজিয়েছেন, অন্যদিকে বিজেপি নারী-বিরোধী— তৃণমূলের এই পুরনো প্রচারকেও উসকে দিয়েছেন। শ্রীরামপুরের সাংসদের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।