ভাইয়ের পড়ার খরচ জোগাতে রাত জেগে ডেলিভারি, মদ্যপের গাড়ির চাকায় পিষে মৃত্যু যুবকের

অভাবের সংসারে বড় ছেলে ছিলেন মেরুদণ্ড। ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ আর অসুস্থ মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়েই ঘাতক গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ২৫ বছরের যুবক হেম শঙ্কর। পশ্চিম দিল্লির সুভাষ নগর মেট্রো স্টেশনের কাছে শনিবার গভীর রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
ভাইয়ের স্বপ্ন বনাম নিষ্ঠুর নিয়তি: দিল্লির রঘুবীর নগরের বাসিন্দা হেম শঙ্কর দিনে একটি দোকানে কাজ করতেন। কিন্তু সেই সামান্য আয়ে ভাইয়ের স্কুলের খরচ আর সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। তাই বাড়তি রোজগারের আশায় রাতে ফুড ডেলিভারি এজেন্টের কাজ নিয়েছিলেন তিনি। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত চলত তাঁর হাড়ভাঙা খাটুনি। শনিবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ যখন তিনি জনকপুরীতে খাবার পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, তখনই ঘটে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি দ্রুত গতির গাড়ি হেমের বাইককে ওভারটেক করতে গিয়ে আচমকা বাঁ দিকে ঘুরে যায়। টাল সামলাতে না পেরে হেম রাস্তায় ছিটকে পড়লে ঘাতক গাড়িটি তাঁর ওপর দিয়েই চলে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মত্ত চালকের পরিচয়: দুর্ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে ফেলেন ঘাতক গাড়ির চালককে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চালকের নাম মোহিত কুমার, যিনি পেশায় দিল্লি পুরসভার একজন ঠিকাদার। পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার শরদ ভাস্কর দাড়ারে জানান, মোহিতের বিরুদ্ধে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর মামলা রুজু করা হয়েছে।
শোকাতুর পরিবার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন: ছেলের অকাল মৃত্যুতে পাথর হয়ে গিয়েছেন মা রুক্মিণী শঙ্কর। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেল।” অন্যদিকে, এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে রাতের শহরে ডেলিভারি এজেন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে। অন্যের খিদের অন্ন জোগাতে গিয়ে আর কতজনকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।