পোশাক শ্রমিকের আড়ালে জঙ্গিপনা! তিরুপুরে পুলিশের জালে ৬ খতরনাক জঙ্গি, বাংলা থেকেও গ্রেফতার ২!

ভারতের বুকে বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল সীমান্তের ওপারের শত্রুশক্তি। কিন্তু দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই ভয়ঙ্কর চক্রান্ত। তামিলনাড়ুর তিরুপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে, যারা মূলত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং বাংলাদেশের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর নির্দেশে নাশকতার জাল বুনছিল। ধৃতদের নাম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শাহিদ এবং মোহাম্মদ উজ্জল।
তদন্তকারীদের দাবি, এই ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিরুপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছিল। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে তাদের আসল কাজ ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতবিরোধী বিষ ছড়ানো এবং তরুণদের মগজ ধোলাই করা। তারা নিয়মিত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে উস্কানিমূলক ভিডিও ও ছবি শেয়ার করত। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বুকে দিল্লি মেট্রোসহ একাধিক জায়গায় ‘ফ্রি কাশ্মীর’ লেখা পোস্টার লাগানোর নেপথ্যেও ছিল এই মডিউলটি।
পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরা কেবল প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ‘রেকি’ বা নজরদারি চালাচ্ছিল সম্ভাব্য হামলার জায়গা ঠিক করতে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৮টিরও বেশি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যেখান থেকে বড় কোনো গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চক্রের শিকড় কতদূর তা খুঁজতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আটজনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের হদিশ মিলেছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই মডিউলটি সরাসরি আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। এই গ্রেফতারির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা এই থ্রেট মোকাবিলায় এখন সবকটি রাজ্যের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।