ভারতীয়ের সওয়ালেই কাবু ট্রাম্প? জেনেনিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীর পরিচয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের (Tariffs) নীতিকে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নিজের ইচ্ছেমতো চড়া শুল্ক চাপিয়ে প্রেসিডেন্ট তাঁর আইনি এক্তিয়ার লঙ্ঘন করেছেন। আর ট্রাম্পের এই শক্তিশালী নীতিকে আইনি লড়াইয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার কারিগর হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনজীবী নীল কাটিয়াল।
লড়াইটা ছিল সংবিধান রক্ষার: নীল কাটিয়াল
৫৪ বছর বয়সী নীল কাটিয়াল সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে মার্কিন সংবিধানের এক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। রায়ের পর তিনি বলেন, “এই মামলা কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ছিল না; বরং লড়াইটা ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্সির ক্ষমতা এবং সংবিধানের মর্যাদা নিয়ে। প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী হতে পারেন, কিন্তু সংবিধান তাঁর চেয়েও বড়।” তিনি আরও যোগ করেন, “একজন অভিবাসীর সন্তান হিসেবে এই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়ে বলতে পারা যে— ‘প্রেসিডেন্ট বেআইনি কাজ করছেন’, এটাই আমেরিকার গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
একনজরে নীল কাটিয়াল: সাফল্যের খতিয়ান
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আইনজীবী মার্কিন আইনি জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র:
-
পরিচয়: তাঁর বাবা-মা ভারত থেকে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। মা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাবা প্রকৌশলী।
-
শিক্ষা: গ্র্যাজুয়েশন করেছেন ডার্টমাউথ কলেজ থেকে এবং আইন পাস করেছেন স্বনামধন্য ইয়েল ল’ স্কুল থেকে।
-
ক্যারিয়ার: প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১০ সালে তিনি আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-
সম্মান: ২০১৭ এবং ২০২৩ সালে তিনি মার্কিন বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘দ্য এডমন্ড র্যান্ডলফ’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
-
রেকর্ড: সুপ্রিম কোর্টে এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি মামলা লড়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব
৬-৩ ভোটের এই রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট করেছেন যে, কর বা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা শুধুমাত্র কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত। ট্রাম্প ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে যে বৈশ্বিক শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা আইনত অবৈধ। এই রায়ের ফলে গত এক বছরে সংগৃহীত প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়ার পথ প্রশস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই রায়কে ‘ভয়াবহ সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং বিকল্প পথে ১০ শতাংশ গ্লোবাল ট্যারিফ জারি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, নীল কাটিয়ালের এই আইনি জয় ভবিষ্যতে যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতার ওপর শক্তিশালী লাগাম টেনে ধরল।