“দেশের সম্মানের ঊর্ধ্বে কিছু নয়”-AI সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন বাবুল

দিল্লির ‘ইন্ডিয়া AI সামিট’-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক এবার এক নতুন মাত্রা নিল। ভারত মণ্ডপমে বিশ্বজুড়ে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রযুক্তিবিদদের সামনে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ‘শার্ট খুলে’ বিক্ষোভ প্রদর্শনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়। বিষয়টিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

ঠিক কী ঘটেছিল ভারত মণ্ডপমে?

গত শুক্রবার যখন ভারত মণ্ডপমে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একাধিক দেশের প্রেসিডেন্টরা উপস্থিত ছিলেন, তখনই নিরাপত্তার বেষ্টনী টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন একদল যুব কংগ্রেস কর্মী। তারা হাতে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি চরম আকার নেয় যখন কিছু কর্মী প্রকাশ্যে শার্ট খুলে চিৎকার করতে থাকেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং চার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের দাবি, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।

বাবুলের কড়া তোপ: “জাতির সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি নয়”

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সরব হন তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়। যুব কংগ্রেসের এই আচরণকে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন:

  • ভুল বার্তা: “বিশ্বসেরা ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সামনে এই ধরনের আচরণ আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার সম্পর্কে ভুল বার্তা দেয়।”

  • ম্যাচুরিটির অভাব: বাবুল আরও যোগ করেন, “গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে, কিন্তু তা দায়িত্বের সঙ্গে করা উচিত। বিদেশের সামনে ভারতকে উপস্থাপন করার সময় ‘দলীয় নাট্যকার’দের অবশ্যই পরিপক্কতা বা ম্যাচুরিটি দেখানো উচিত।”

  • মর্যাদাহানি: তাঁর সাফ কথা, রাজনৈতিক লড়াই চলতেই পারে, কিন্তু জাতির সম্মান ও মর্যাদার বিনিময়ে এমন নাটকীয় প্রতিবাদ কাম্য নয়।

আদালতে পুলিশি তৎপরতা

ধৃত চার বিক্ষোভকারীকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ দাবি করে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা যা দেশের গরিমা নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপমে হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই কর্মীরা ভেতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিরোধী ঐক্যের আবহ থাকলেও, কংগ্রেসের এই প্রতিবাদী ধরনকে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার এভাবে আক্রমণ করা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।