“৫৯০ কোটি টাকার জালিয়াতি”-IDFC-ফার্স্ট ব্যাঙ্কের ৪ কর্মী সাসপেন্ড?

৫৯০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক জালিয়াতির কবলে পড়ল আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক (IDFC FIRST Bank)। চণ্ডীগড় শাখায় হরিয়ানা সরকারের একাধিক অ্যাকাউন্টে এই বিপুল অঙ্কের গরমিল ধরা পড়েছে। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই ওই শাখার চার কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

কীভাবে ধরা পড়ল এই জালিয়াতি?

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ঘাপলাটি সামনে আসে যখন হরিয়ানা সরকারের একটি বিভাগ তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে অন্য ব্যাঙ্কে টাকা স্থানান্তরের আবেদন জানায়। সেই সময় দেখা যায়:

  • নথিতে উল্লিখিত ব্যালান্স এবং ব্যাঙ্কের প্রকৃত ব্যালান্সের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

  • ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অন্যান্য সরকারি দফতরগুলো তাদের অ্যাকাউন্ট যাচাই শুরু করলে একে একে আরও অসঙ্গতি বেরিয়ে আসে।

ব্যাঙ্ক কর্মীদের ভূমিকা ও তদন্ত

প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই জালিয়াতির নেপথ্যে শাখার কিছু কর্মীর যোগসাজশ রয়েছে। এর পাশাপাশি বাইরের কোনো বড় চক্র বা সংস্থার হাত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

  • অ্যাকশন: সন্দেহভাজন ৪ কর্মীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • আইনি পদক্ষেপ: পুলিশ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি— উভয় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাঙ্ক।

সাধারণ গ্রাহকদের ভয় নেই তো?

ব্যাঙ্ক স্পষ্ট করেছে যে, এই জালিয়াতি শুধুমাত্র হরিয়ানা সরকারের নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চণ্ডীগড় শাখার সাধারণ গ্রাহক বা অন্য কোনো আমানতকারীর টাকা এতে প্রভাবিত হয়নি। জালিয়াতি হওয়া টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার জন্য অন্যান্য ব্যাঙ্ককেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

ব্যাঙ্কের অডিট কমিটি এবং বোর্ড অফ ডিরেক্টরস পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ বৈঠক করেছে। তদন্ত শেষ হলে জালিয়াতির সময়কাল এবং ব্যাঙ্কের ওপর এর আর্থিক প্রভাব ঠিক কতটা, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।