ডেটিং অ্যাপে প্রেম, লিভ-ইনে চরম নৃশংসতা! তরুণীর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরাল পাষণ্ড সঙ্গী

রাজধানী দিল্লিতে ফের এক লিভ-ইন সম্পর্কের ভয়ানক এবং নৃশংস পরিণতি সামনে এল। এক ১৯ বছর বয়সী ছাত্রীকে টানা তিন দিন ধরে আটকে রেখে অমানবিক শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠল তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভয়াবহতা এতটাই যে, মারধরের পাশাপাশি ওই তরুণীর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে অভিযুক্ত যুবক। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী।
ডেটিং অ্যাপ থেকে আলাপ: ত্রিপুরার বাসিন্দা ওই তরুণী বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে গুরুগ্রামে থাকতেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লির এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দ্রুত তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তাঁরা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এমনকি দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল।
৩ দিন ধরে চলল নরকযন্ত্রণা: গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিয়ের কথা উঠলে শুরু হয় তুমুল বিবাদ। তরুণীর অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক প্রথমে পিতলের বোতল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এরপর তাঁকে ঘরের আসবাবে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পাশবিকতার সীমা ছাড়িয়ে ওই যুবক তরুণীর গোপনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে এবং ছুরি দিয়ে বারংবার আঘাত করে। এই নারকীয় অত্যাচার টানা তিন দিন ধরে চলে বলে জানা গিয়েছে।
উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা: অত্যাচারের মাঝেই তরুণী কোনোমতে সুযোগ বুঝে ত্রিপুরায় তাঁর মাকে ফোন করে সব জানান। পরিবারের তরফে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। প্রথমে গুরুগ্রামের সরকারি হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দিল্লির এইমস (AIIMS) ও সেখান থেকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ: নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটকে রাখা, ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং শারীরিক নির্যাতনের মামলা রুজু হয়েছে। নির্যাতিতার মা পুলিশি অভিযোগে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতের চিহ্ন মিলেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।