OMG! বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের ৫ জনের দেহ উদ্ধার, নেপথ্যে কোন রহস্য?

উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বন্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টানা তিন দিন বাড়ির কারো কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।
দরজা ভাঙতে নিতে হলো ওয়েল্ডিং মেশিনের সাহায্য
ঘটনাটি ঘটেছে কাসগঞ্জ জেলার আমানপুর এলাকার গুপ্তা এজেন্সি পেট্রোল পাম্পের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি ভিতর থেকে এমনভাবে বন্ধ ছিল যে সাধারণ উপায়ে তা খোলা সম্ভব হয়নি। শেষমেশ পুলিশ ওয়েল্ডিং মেশিনের সাহায্যে দরজা কেটে ভিতরে ঢোকে এবং দেখতে পায় এক বীভৎস দৃশ্য।
মৃতদের পরিচয় ও প্রাথমিক তথ্য:
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতরা হলেন:
-
শ্যামবীর সিং (৫০): পেশায় ওয়েল্ডার, তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে।
-
শীলা (৪৮): শ্যামবীরের স্ত্রী, মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন।
-
তিন সন্তান: আকাঙ্ক্ষা (১০), প্রাচী (১২) ও গিরিশ (৮)।
খুন না আত্মহত্যা? দানা বাঁধছে রহস্য
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি গণ-আত্মহত্যার (Mass Suicide) ঘটনা হতে পারে। পুলিশের সন্দেহ— শ্যামবীর প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের বিষপ্রয়োগ করেন এবং পরে নিজেও বিষ খেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। তবে স্ত্রীর গলায় আঘাতের চিহ্ন মেলায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে ইতিমধ্য়েই পৌঁছেছে:
-
আমানপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
-
জেলা পুলিশ সুপার এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল।
-
তদন্তে সহায়তা করার জন্য আনা হয়েছে ডগ স্কোয়াড।
আর্থিক সংকট না অন্য কিছু?
এখনও পর্যন্ত ঘর থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। প্রতিবেশীদের দাবি, শ্যামবীর অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তবে তাঁদের কোনো ঋণের বোঝা বা পারিবারিক কলহ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়িটি সিল করে দিয়েছে এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।