নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড: ২৭ কফিনে ফিরছে স্বজনদের দেহাংশ, ১ মাস পর কান্নাভেজা মিছিলে কলকাতা!

গত ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত আজও দগদগে। প্রায় এক মাস পর, শনিবার থেকে শুরু হলো মৃতদের দেহাংশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। ‘ওয়াও মোমো’র গুদাম সহ দুটি কারখানায় লাগা সেই বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে ও দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জন কর্মীর। দীর্ঘ আইনি ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনের দেহাংশ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ। আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে আরও ২টি দেহ, আর ৯ জনের পরিচয় এখনও মেলেনি।
শনিবার কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে ছিল স্বজনহারা পরিবারগুলোর উপচে পড়া ভিড়। জীবন্ত ফিরে পাওয়ার আশা তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে, এখন শুধু প্রিয়জনের হাড়গোড়টুকু আঁকড়ে ধরে শেষকৃত্য করার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের ডিএনএ প্রোফাইলিং ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জলাজমি ভরাট করে কোনো রকম অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই বেআইনিভাবে চলছিল এই গোডাউনগুলো। এই ঘটনায় ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করা হয়েছে দুই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেও, অনেক পরিবারের দাবি—আর্থিক সাহায্য এখনও পৌঁছায়নি তাঁদের কাছে। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে সহায়-সম্বলহীন হওয়ার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে নাজিরাবাদ আজ এক বিষণ্ণ জনপদ।