‘পিএম ইজ কমপ্রোমাইজড’— টি-শার্টে মোদী-ট্রাম্পের ছবি! বড় বিপাকে ৪ যুব কংগ্রেস কর্মী

খাস রাজধানীর বুকে ভারত মণ্ডপমে আন্তর্জাতিক ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ যুব কংগ্রেসের নজিরবিহীন প্রতিবাদ ঘিরে তোলপাড় দেশ। শনিবার এই ঘটনায় ধৃত ৪ কর্মীকে পাটিয়ালা হাউস কোর্টে তোলা হলে তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি সামনে এনেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, এই প্রতিবাদের শিকড় ছড়িয়ে থাকতে পারে প্রতিবেশী দেশ নেপালে!

নেপালের ‘Gen Z’ কানেকশন?

আদালতে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, ধৃত যুব কংগ্রেস কর্মীরা স্রেফ আবেগবশত এই কাজ করেননি। বরং তাঁরা নেপালের বিতর্কিত ‘জেন জি মুভমেন্ট’ (Gen Z Movement) দ্বারা অনুপ্রাণিত। পুলিশের অভিযোগ, এর পিছনে রয়েছে এক ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’। প্রতিবেশী দেশের এই আন্দোলন যেভাবে সে দেশের সরকারকে টালমাটাল করে দিয়েছিল, ঠিক তেমনই কোনো নকশা এ দেশেও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের মুখোমুখি জেরা করতে চায় পুলিশ।

রহস্যময় টি-শার্ট ও ‘এপস্টিন ফাইল’

শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে ঢুকে আচমকাই নিজেদের টি-শার্ট খুলে ফেলেন আন্দোলনকারীরা। সেই টি-শার্টগুলোতে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত সব স্লোগান:

  • ‘PM is Compromised’ (প্রধানমন্ত্রী আপস করেছেন)।

  • ‘India-US Trade Deal’ (ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি)।

  • ‘Epstein Files’ (বিতর্কিত এপস্টিন ফাইল প্রসঙ্গ)।

টি-শার্টগুলোতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিও ছিল। পুলিশের প্রশ্ন, এই টি-শার্টগুলো কে বা কারা ছাপাল? এর জন্য অর্থের জোগান কোথা থেকে এল? কোনো বিদেশি শক্তি কি এর নেপথ্যে রয়েছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীরা উঠেপড়ে লেগেছেন।

আদালতে সওয়াল-জবাব

ধৃতদের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটি একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু সরকারি আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি, এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে হেয় করার পূর্বপরিকল্পিত ছক। তাঁরা অনলাইনে কিউআর কোড (QR Code) সংগ্রহ করে সুকৌশলে ভেতরে ঢুকেছিলেন এবং জ্যাকেটের নিচে আপত্তিকর টি-শার্ট লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই ‘পরিকল্পিত হাঙ্গামা’ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে পুলিশ।

রাজনীতিতে তুঙ্গে বাগযুদ্ধ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে যুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং পীযূষ গোয়েলরা এই প্রতিবাদকে ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘নির্লজ্জ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যখন স্যাম অল্টম্যান বা সুন্দর পিচাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা ভারতের প্রশংসা করছেন, তখন কংগ্রেস বিদেশের সামনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস কর্মীদের এই সাহসিকতাকে সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছে হাইকমান্ড।