মার্কিন কোর্টে বাতিল ট্রাম্পের শুল্কনীতি, জেনেনিন ভারতের স্ট্র্যাটেজি কী?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতি বা ‘ট্যারিফ’ নিয়ে এবার খোদ আমেরিকার অন্দরেই তুলকালাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে কার্যত বিরক্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্পের জারি করা একাধিক ট্যারিফকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে আদালত, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারত সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা ট্রাম্পকে
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে চড়া ট্যারিফ চাপানো আইনত বৈধ নয়। এই আইনের দোহাই দিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিল। আদালতের এই রায়ের ফলে সেই পুরনো শুল্কের আইনি ভিত্তি ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
এর ফলে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগে ভারতের ওপর যে ১৮ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ ধার্য করা হয়েছিল, তা কমে ৩.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের পাল্টা ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ট্রাম্পের
আদালতের রায়ে দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প। রায় আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পাল্টা চাল চালেন। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সব দেশ থেকে আমদানির ওপর ১০ শতাংশ নতুন ট্যারিফ বসানো হচ্ছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। এবার তিনি ব্যবহার করেছেন ‘সেকশন ১২২’ নামক একটি বিশেষ ধারা, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট চাইলে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারেন।
কী বলছে ভারত সরকার?
আমেরিকার এই অভ্যন্তরীণ আইনি লড়াই এবং ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে:
-
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ট্রাম্পের সাংবাদিক বৈঠক—দুটোই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
-
নতুন এই ১০% ট্যারিফ ভারতের রপ্তানি খাতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।
-
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করণীয়, কেন্দ্র সেই পদক্ষেপই নেবে।
ভারতের রপ্তানি খাতে আশঙ্কার মেঘ
অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের ফলে ভারতের ইস্পাত, টেক্সটাইল, রাসায়নিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানিতে খরচ বাড়তে পারে। তবে আদালত যেহেতু পুরনো চড়া শুল্ককে অবৈধ বলেছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে ভারত কোনো সুবিধা পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
পুরনো শুল্ক: ১৮% (আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত)।
নতুন প্রস্তাবিত শুল্ক: ১০% (কার্যকর হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে)।
ভারতের অবস্থান: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বিদেশ ও বাণিজ্য মন্ত্রক।
আমেরিকার আদালত বনাম প্রেসিডেন্টের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লাভ কার হবে, আর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক কোন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।