নির্বাচন কমিশনের ওপর চরম অনাস্থা সুপ্রিম কোর্টের! ভোটার তালিকা সংশোধনে বিচারপতির নজরদারি, বাংলায় হুলুস্থুল!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েনে শুক্রবার এক নজিরবিহীন অধ্যায় যুক্ত করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় নজরদারি করবেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বর্তমান ও প্রাক্তন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। নির্বাচন কমিশনের বদলে বিচার বিভাগের এই হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল। শাসকদল তৃণমূল একে ‘বিরাট জয়’ বলে দাবি করলেও, বিরোধীরা একে দেখছে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের চূড়ান্ত দেউলিয়াপনা হিসেবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, “বিজেপির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম কাটার চক্রান্ত হচ্ছিল। সুপ্রিম রায়ে এটা স্পষ্ট যে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে।” অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও নির্বাচন কমিশনের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। সেলিমের বক্তব্য, “আদালত যখন ট্রাস্ট ডেফিসিয়েন্সির (বিশ্বাসের ঘাটতি) কথা বলে, তখন বুঝতে হবে কমিশনের ওপর মানুষের আর আস্থা নেই।” পালটা তোপ দেগে বিজেপির সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, “ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গেলে তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা ভোট দেবে কে?”
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্য এবং কমিশনের মধ্যে যে ‘বিশ্বাসের ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এর আগে ভোটার তালিকার আপত্তির ফর্ম পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল আদালত। কমিশনের তরফে আইনশৃঙ্খলার অবনতির যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তার জন্য পরবর্তী শুনানিতে হলফনামা তলব করেছে শীর্ষ আদালত। মার্চের প্রথম সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। আপাতত ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।