এপস্টিনের ‘ডার্ক সিক্রেট’ জেনে ফেলেছিলেন রিনা, করতো পাশবিক অত্যাচার!

যৌন অপরাধ জগতের অন্ধকার সম্রাট জেফ্রি এপস্টিন (Jeffrey Epstein) আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ক্ষতর দাগ আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন শত শত নারী। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার এনডিটিভি-র (NDTV) কাছে নিজের ‘নরকযন্ত্রণা’র কথা সবিস্তারে জানালেন দক্ষিণ কোরীয় বংশোদ্ভূত শিল্পী রিনা ওহ (Rina Oh)। তাঁর বয়ানে উঠে এল কীভাবে এক তরুণ শিল্পীর স্বপ্নকে পদদলিত করে তাঁকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এপস্টিন।

শিল্পীর স্বপ্ন থেকে এপস্টিনের জাল

সাউথ কোরিয়ায় জন্ম রিনার। শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন আমেরিকায়। ২১ বছর বয়সে যখন তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, তখনই এপস্টিনের নজরে পড়েন তিনি। রিনা জানান:

  • ফাঁদ: তরুণ শিল্পীদের সাহায্য করার নাম করে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন কবজা করতেন এপস্টিন।

  • মানসিক অত্যাচার: রিনাকে ব্যঙ্গ করে ‘বুড়ি’ বলতেন তিনি। তাঁর হাঁটা-চলা, কথা বলা— সবটাই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতেন।

  • ভয়ংকর তথ্য: এপস্টিন জানতেন রিনা ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সেই ট্রমাকেই হাতিয়ার করে রিনাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিতেন তিনি।

হুমকি ও নজরদারি

রিনা জানিয়েছেন, এপস্টিন শুধু শারীরিক অত্যাচারই করতেন না, তাঁর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করতেন। রিনার স্বামীর ভিসার সমস্যা থেকে শুরু করে তাঁর বাবা-মায়ের ঠিকানা— সবটাই ছিল এপস্টিনের নখদর্পণে। রিনার অভিযোগ, “সব সময় মনে হতো কেউ আমাকে অনুসরণ করছে। তাঁর একটা ফোনে আমার জীবন ছারখার হয়ে যেতে পারত।”

অন্ধকার রহস্য ও ব্রিটিশ রাজপরিবার

ফ্লোরিডা সফরের সময় এপস্টিন রিনার কাছে নিজের জীবনের কিছু চরম ‘গোপন কথা’ ফাঁস করেছিলেন। সেই রহস্য ফাঁস হওয়ার ভয়েই রিনার ওপর অত্যাচারের মাত্রা দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। যদিও সেই রহস্যটি ঠিক কী, তা নিরাপত্তার খাতিরে এখনও খোলসা করেননি রিনা।

তবে ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম এই কেলেঙ্কারিতে আসায় খুশি রিনা। তিনি বলেন:

“রাজপরিবারের সদস্যকেও যখন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়, তখন মনে হয় বিচার পাওয়া সম্ভব। কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না।”

নির্যাতিতাদের জন্য বার্তা

আজ রিনা ওহ স্বাবলম্বী, নির্ভীক। তিনি সেইসব মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যাঁরা আজও ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না। তাঁর একটাই বার্তা— “ভয় পাবেন না, লড়াই চালিয়ে যান।”