ফের সীমান্তে ফিরছেন ঘরের ছেলে! পাকিস্তানে বন্দি রিষড়ার জওয়ান পূর্ণম সাউকে সসম্মানে ফেরাল BSF!

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সীমাহীন উৎকণ্ঠা আর প্রশাসনিক লড়াইয়ের পর অবশেষে মেঘ কাটল। পাকিস্তানের হাতে বন্দি হওয়ার পর চাকরি খোয়ানোর যে কালো ছায়া নেমে এসেছিল রিষড়ার বাঙ্কুর পার্কের সাউ পরিবারে, তা মুছে গিয়ে এখন খুশির জোয়ার। বিএসএফ (BSF) জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউকে পুনরায় তাঁর পদে সসম্মানে পুনর্বহাল করল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার এই সুখবরটি প্রকাশ্যে আসতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ এপ্রিল। পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হানার ঠিক পরের দিন পঞ্জাবের পঠানকোট সীমান্তে অনডিউটি থাকাকালীন ভুলবশত জিরো লাইন পার করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিলেন পূর্ণম। সেই সময় চরম উত্তেজনার আবহে পাক রেঞ্জার্স তাঁকে আটক করে। সাধারণত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত মুক্তি মিললেও, সেই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পূর্ণমকে দীর্ঘ টালবাহানার পর মুক্তি দেয় পাকিস্তান। দেশে ফেরার পর নিয়মমাফিক শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত। তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিল তাঁর পরিবার।
অবশেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্জাবের জলন্ধরে বিএসএফ-এর হেড কোয়ার্টার থেকে পূর্ণমের হাতে পৌঁছায় সেই বহুপ্রতীকিত পুনর্বহালের চিঠি। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণমের ১৭ বছরের দীর্ঘ এবং উজ্জ্বল কর্মজীবনে ৬টি পুরস্কার রয়েছে এবং তাঁর আগে কোনও শাস্তিমূলক রেকর্ড নেই। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই তাঁকে ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ফোনে রিষড়ার বাড়ি থেকে পূর্ণমের স্ত্রী রজনী সাউ জানান, “চাকরিটা চলে গেলে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি আর দুই সন্তানকে নিয়ে পথে বসতে হতো আমাদের। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছিলাম। অবশেষে বিচার পেয়েছি।” বৃহস্পতিবারই পঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পূর্ণম। ফের দেশের সীমান্ত রক্ষার গুরুদায়িত্বে ফিরছেন তিনি, আর এটাই এখন রিষড়ার বাঙ্কুর পার্কের সবথেকে বড় গর্বের খবর।