পরিচয় ছিল না, ঠিকানাও ছিল অজানা; অসংলগ্ন আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রজনীকে খুঁজে দিল হ্যাম রেডিয়ো

প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার মেলবন্ধন ঘটলে যে অসাধ্য সাধন করা যায়, তার প্রমাণ মিলল গঙ্গাসাগরে। দীর্ঘ এক বছর আগে পূণ্যস্নানের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন হরিয়ানার ফরিদাবাদের বাসিন্দা রজনী শর্মা। নাম-পরিচয়হীন এক ভবঘুরে জীবন কাটিয়ে অবশেষে হ্যাম রেডিয়োর (West Bengal Radio Club) তৎপরতায় নিজের পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন তিনি।

ভবঘুরে থেকে স্বগৃহ: গত এক বছর ধরে সাগরের চরে কখনও গান গেয়ে, কখনও নেচে দিন কাটত রজনীর। অসংলগ্ন আচরণের কারণে কেউ তাঁর হদিশ জানত না। সম্প্রতি কচুবেড়িয়া ঘাটে এক সিভিল ডিফেন্স কর্মীর নজরে পড়লে খবর দেওয়া হয় হ্যাম রেডিয়োকে। রেডিয়ো ক্লাবের সদস্য দিবস মণ্ডল ও আতাউর শেখদের ধৈর্যের কাছে হার মানে রজনীর অস্পষ্ট স্মৃতি। কথায় কথায় উঠে আসে উত্তরাখণ্ডের এক স্কুলের নাম, যা থেকেই শুরু হয় আসল অনুসন্ধান।

নাটকীয় মোড় ও মিলন: তদন্তে জানা যায়, রজনীর স্বামী রাজীব কুমার ফরিদাবাদে থাকেন। প্রথমে স্বামী তাঁকে ফিরিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করলেও, হ্যাম রেডিয়ো সদস্যরা হাল ছাড়েননি। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী দপ্তর ও ফরিদাবাদ পুলিশের সহায়তায় চাপ সৃষ্টি করা হলে অবশেষে স্বামী এসে রজনীকে নিয়ে যান। ভিডিও কলে স্বামীকে দেখে রজনীর সেই আবেগঘন গান ও নাচ উপস্থিত পুলিশ ও সদস্যদের চোখ ভিজিয়ে দেয়। এক রজনীর ঘরে ফেরার মধ্য দিয়েই সার্থক হলো হ্যাম রেডিয়োর স্লোগান— “মানুষ মানুষের জন্য”।