স্পেনে লটারি! ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করছে সরকার, তালিকায় আপনি নেই তো?

ইউরোপের দেশগুলো যখন অভিবাসীদের জন্য দরজা বন্ধ করছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিল স্পেন সরকার। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের প্রশাসন দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে নিয়মিত বা বৈধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য। বিশেষ করে ২০২৭ সালের নির্বাচনে ভোটব্যাংক তৈরির যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।

কারা পাবেন এই সুবর্ণ সুযোগ? সরকারি খসড়া অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে যারা স্পেনে বসবাস করছেন এবং আবেদনের সময় অন্তত টানা পাঁচ মাস অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন, তারাই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। শর্ত একটাই—আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

বৈধ হলে কী কী সুবিধা মিলবে? আবেদন মঞ্জুর হলে অভিবাসীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের রেসিডেন্স পারমিট পাবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কাজের অধিকার। আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত সময়কালেই আবেদনকারীরা আইনিভাবে কাজ শুরু করতে পারবেন। এর ফলে তারা শোষণের হাত থেকে বাঁচবেন এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বিশেষ অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

ভোটের অধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি: সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, বৈধ হলেই এরা ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিয়মিত হওয়া মানেই নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার পাওয়া নয়। স্পেনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে দেশটির নাগরিক হতে হয়, যা অর্জনে সাধারণত ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের প্রয়োজন পড়ে। নিয়মিতকরণ কেবল আইনিভাবে বসবাসের একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র।

২০০৫ সালেও স্পেন এমন বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল, যার ফলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্টো বেড়েছিল। ২০২৬ সালের এই নতুন পদক্ষেপে আবাসন সংকট বা রাজনৈতিক মেরুকরণের মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অভিবাসীদের মূলধারায় আনাই এখন সানচেজ সরকারের মূল লক্ষ্য।