সাবধান! সাধারণ পেট ব্যথা ও ক্লান্তি কি মারণ রোগের হাতছানি? অবহেলা করলেই বিপদ!

মাঝেমধ্যেই পেট ব্যথা হচ্ছে? ভালো করে ঘুমানোর পরেও শরীর থেকে ক্লান্তি যাচ্ছে না? অনেকেই একে সাধারণ গ্যাস-অম্বল বা কাজের ধকল ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই ছোট ছোট লক্ষণগুলোই হতে পারে মারণ রোগ ‘কোলন ক্যানসার’-এর সংকেত। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বজুড়ে ফুসফুস বা স্তন ক্যানসারের হার কমলেও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে কোলন ক্যানসার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
কেন বাড়ছে আতঙ্ক? চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। কোলন ক্যানসারকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয় কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ধরা পড়ে না।
উপেক্ষা করবেন না এই ৪টি লক্ষণ: ১. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া: ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি দ্রুত ওজন কমতে থাকে, তবে তা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এটি শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকা মারণ রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। ২. অবিরাম ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও যদি শরীর ম্যাজম্যাজ করে বা অসম্ভব ক্লান্তি লাগে, তবে সতর্ক হোন। ক্যানসার কোষ শরীরের শক্তি শুষে নিলে এমনটা হয়। ৩. মলত্যাগের অভ্যাসে বদল: মলের সাথে রক্ত পড়া কোলন ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই একে পাইলস ভেবে ভুল করেন। এছাড়া দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়াও উদ্বেগের কারণ। ৪. থেকে থেকে পেট ব্যথা: পেটে অস্বস্তি বা ঘনঘন ব্যথা হওয়া, যা নিজে নিজেই সেরে যায়—এমন পরিস্থিতিকে সাধারণ গ্যাসের সমস্যা ভেবে ফেলে রাখবেন না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: শরীরের কোনো সংকেতকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। লক্ষণগুলো বারবার ফিরে এলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই মারণ রোগ জয় করা সম্ভব।