বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া, আর তাতেই জ্বলন্ত লাইটার ট্যাঙ্কে! যুবক ‘অগ্নিশর্মা’ হতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পেট্রোল পাম্পে

পেট্রোল পাম্পে দাঁড়িয়ে ধূমপান করা যে কতটা বিপজ্জনক, তা প্রায় সবারই জানা। কিন্তু সিগারেট জ্বালাতে বাধা দেওয়ায় খোদ বন্ধুর বাইকের ট্যাঙ্কেই আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার বীরগাঁও এলাকায় এক যুবকের এমন মাথাগরম কাণ্ড দেখে শিউরে উঠছে নেটদুনিয়া।
ঠিক কী ঘটেছিল? মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বীরগাঁওয়ের উরলা থানা এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে দুই বন্ধু বাইকে তেল ভরাতে আসেন। বাইকের ট্যাঙ্ক তখন খোলা। ঠিক সেই মুহূর্তে এক যুবক পকেট থেকে লাইটার বের করে সিগারেট ধরাতে যায়। পেট্রোল পাম্পে আগুন জ্বালানোর বিপদ বুঝতে পেরে তাঁর সঙ্গের বন্ধুটি তৎক্ষণাৎ বাধা দেন। কিন্তু সেই বাধা মানা তো দূরস্ত, উল্টে মেজাজ হারিয়ে বসেন ওই যুবক। কথা কাটাকাটির মাঝেই আচমকা জ্বলন্ত লাইটারটি বাইকের খোলা ফুয়েল ট্যাঙ্কের মুখে ছুঁইয়ে দেন তিনি।
তৎপরতায় বাঁচল প্রাণ: মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বাইক এবং পাম্পের নজল পাইপ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বাইকে বসে থাকা অন্য যুবকটি কোনওমতে প্রাণ বাঁচাতে লাফ দিয়ে সরে যান। তবে জ্বলন্ত তেলের ছিটে লাগে অভিযুক্তের গায়েও। ঘটনার আকস্মিকতায় পাম্পকর্মীরা প্রথমে হতভম্ব হয়ে গেলেও, একজন কর্মী অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি দ্রুত তেলের মেশিনের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) দিয়ে কয়েক মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁর এই তৎপরতা না থাকলে গোটা পেট্রোল পাম্প বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
পুলিশি পদক্ষেপ: আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে পাম্পকর্মীরা তাঁদের ধরে ফেলেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত যুবকটি মানসিক বিকারগ্রস্ত হতে পারে অথবা কোনও নেশার ঘোরে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। গোটা ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা দেখে নেটিজেনরা ওই পাম্পকর্মীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।