শোকাতুর বাংলা! ‘জন অরণ্য’ ছেড়ে চলে গেলেন শংকর, স্মৃতিতে কেবলই বিবেকানন্দ আর শাহজাহান হোটেল

ফাল্গুনের দুপুরে যখন বসন্তের বাতাস বইছে বাংলা জুড়ে, ঠিক তখনই বঙ্গ সাহিত্য জগতে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি সাহিত্যিক মণি শংকর মুখোপাধ্যায়, পাঠক মহলে যিনি ‘শংকর’ নামেই পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার দুপুরে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান হল।
শেষের শুরু: বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ সাহিত্যিক। মাস দু’য়েক আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরলেও শরীরের প্রাণশক্তি যেন ক্রমশ ফুরিয়ে আসছিল। চলতি মাসের শুরু থেকে খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার দুপুরে আর চিকিৎসায় সাড়া দেননি তিনি। চিরতরে ‘স্বর্গ মর্ত পাতাল’-এ বিলীন হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় লেখক।
কালজয়ী সৃষ্টি: শংকরের লেখনী মানেই ছিল মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর ‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাসটি বিশ্বসাহিত্যে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে কালজয়ী সিনেমা। এছাড়াও ‘কত অজানারে’, ‘জন অরণ্য’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘যেখানে যেমন’-এর মতো অসংখ্য সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও ‘অচেনা বিবেকানন্দ’ গ্রন্থটি আক্ষরিক অর্থেই এক অমূল্য সম্পদ।
মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা: শংকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মণি শংকর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।” আজ সন্ধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। শোকস্তব্ধ অগণিত গুণগ্রাহী আজ ভিড় জমিয়েছেন তাঁর প্রিয় শহরের রাস্তায়, যেখানে একদা হেঁটে বেড়াতেন ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা।