ট্যাক্স বাঁচানো তো সামান্য ব্যাপার! PPF ও সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার এই ৫ সুবিধা জানেন কি?

ভারতে বিনিয়োগের কথা উঠলেই অধিকাংশ মানুষের মাথায় প্রথমে আসে আয়কর ছাড়ের কথা। আর সেই তালিকায় সবার উপরে থাকে পিপিএফ (PPF) বা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার (SSY) মতো ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্কিমগুলোকে শুধুমাত্র ‘ট্যাক্স সেভার’ হিসেবে দেখলে বড় ভুল করবেন। কর ছাড়ের বাইরেও এখানে রয়েছে এমন কিছু দুর্দান্ত সুবিধা, যা আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎকে মজবুত করতে পারে।

১. নিটোল নিরাপত্তা: মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ার বাজারে লাভের অঙ্ক বেশি হলেও সেখানে ঝুঁকি থাকে। কিন্তু পিপিএফ বা সুকন্যা সমৃদ্ধি সরাসরি ভারত সরকার সমর্থিত। ফলে বাজারের ওঠানামায় আপনার মূলধনে কোনো আঁচ পড়ে না। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য যেমন সন্তানের পড়াশোনা বা নিজের অবসরের জন্য এটি সবথেকে নিরাপদ আশ্রয়।

২. নিশ্চিত ও আকর্ষণীয় রিটার্ন: সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় এই প্রকল্পগুলোতে সুদের হার অনেক বেশি। বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় যে হারে সুদ পাওয়া যায়, তা বর্তমান বাজারে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। প্রতি ত্রৈমাসিকে সরকার এই সুদের হার পর্যালোচনা করে।

৩. চক্রবৃদ্ধি সুদের ম্যাজিক: পিপিএফ-এর মতো ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি স্কিমে বিনিয়োগ করলে ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’-এর সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থাৎ আসলের পাশাপাশি সুদের ওপর সুদ মিলে সময়ের সাথে সাথে আপনার ছোট সঞ্চয় এক বিশাল তহবিলে পরিণত হয়।

৪. ‘EEE’ ক্যাটাগরির বিশেষ সুবিধা: এই প্রকল্পগুলো ‘Exempt-Exempt-Exempt’ বা ইইই পর্যায়ের। অর্থাৎ বিনিয়োগের সময় ছাড়, অর্জিত সুদে ছাড় এবং মেয়াদ শেষে টাকা তোলার সময়ও কোনো কর দিতে হয় না। দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরিতে এটি একটি বিরল সুবিধা।

৫. আর্থিক শৃঙ্খলা: এই স্কিমগুলোর নির্দিষ্ট ‘লক-ইন’ পিরিয়ড থাকে। ফলে চাইলেই হুট করে টাকা তুলে খরচ করা সম্ভব নয়। এটি পরিবারে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করে এবং ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এছাড়া পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট বা এনএসসির (NSC) মতো বিকল্পগুলো বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করে।