মুর্শিদাবাদে ফের বাবরি মসজিদ! সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্তে তোলপাড় দেশ

ভারতে বাবর বা বাবরি মসজিদের নামে কোনো নতুন মসজিদ তৈরি করা যাবে না—এমন দাবি নিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আবেদনটি বাতিল করে দেয়।
আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবীর মূল যুক্তি ছিল, মুঘল সম্রাট বাবর ছিলেন একজন “হিন্দু-বিরোধী আক্রমণকারী” এবং অগণিত হিন্দুর মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী। ফলে ভারতের মাটিতে তাঁর নামে কোনো ধর্মীয় স্থাপত্য গড়ে তোলা উচিত নয়। শুনানির সময় আইনজীবী বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি বিতর্কিত প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর সেখানে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাবরি মসজিদ’। আবেদনকারীর দাবি ছিল, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর হুমায়ুন কবীর এই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন। সেই সময় তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ঘোষণা করেছিলেন যে, বাংলার ৩৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা যেকোনো মূল্যে এই মসজিদ তৈরি করবে এবং এর একটি ইট সরানোর ক্ষমতাও কারো নেই। তাঁর এই মন্তব্য এবং প্রকল্পের নাম নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, “আমি অসাংবিধানিক কিছু করছি না। ভারতের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজের ধর্ম পালনের ও ধর্মীয় স্থান গড়ার অধিকার দিয়েছে। যে কেউ মন্দির বা গির্জা তৈরি করতে পারলে, আমি কেন মসজিদ তৈরি করতে পারব না?” তিনি আরও জানান, তাঁর বিরুদ্ধে এই মসজিদ নিয়ে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু আদালত তাঁর অধিকারকেই মান্যতা দিয়েছে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আল্লাহ যার সাথে আছেন, তাকে কেউ থামাতে পারে না।”
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মসজিদ নয়, এই চত্বরে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি করা হবে। তাঁর কথায়, এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবায় একটি বড় প্রতিষ্ঠান হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে মুর্শিদাবাদের এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।