তৃণমূলের টাকা নয়, সরকারের! আরামবাগে ‘যুব সাথী’র লাইনে দাঁড়িয়ে কেন মমতার জয়গান গাইলেন বিজেপি নেত্রী?

ভোটের বাদ্যি বাজতেই বাংলায় শুরু হয়েছে ‘ভাতার রাজনীতি’ নিয়ে তীব্র চাপান-উতোর। বিরোধীরা যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ‘ভোট পাওয়ার কৌশল’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই হুগলিতে ধরা পড়ল এক অভাবনীয় ছবি। বিজেপির মহিলা মোর্চার এক দাপুটে নেত্রীকে দেখা গেল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা দিতে। শুধু ফর্ম জমা দেওয়াই নয়, রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর গলায়।
ঘটনাটি কী?
শুক্রবার সকালে হুগলির গোঘাট ২ নম্বর ব্লক অফিসে শোরগোল পড়ে যায়, যখন দেখা যায় আরামবাগ টাউন মহিলা মোর্চার কনভেনার সুদেষ্ণা অধিকারী মোহান্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুব সাথীর ফর্ম ফিল-আপের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিজেপি নেত্রীকে সরকারি প্রকল্পের লাইনে দেখে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়। ক্যামেরা এগিয়ে আসতেই তিনি অকপটে জানান, এই টাকা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সরকারের। তাই এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার আছে।
ছেলে না নিজের নাম?
সুদেষ্ণা দেবী দাবি করেন যে তিনি তাঁর ছেলের জন্য ফর্ম জমা দিতে এসেছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফর্মের ছবিতে উপভোক্তা হিসেবে তাঁর নিজেরই ছবি ও নাম রয়েছে। যদিও এই বিতর্ককে সরিয়ে রেখে তিনি স্পষ্ট জানান, “কত শিক্ষিত যুবক-যুবতী যে এখনো বেকার আছেন, তা নথিভুক্ত থাকা দরকার। অনেকেই চাকরির ফর্ম ফিল-আপের জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই সরকারি ভাতা খুবই জরুরি।” এই মানবিক উদ্যোগের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাতেও কার্পণ্য করেননি।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
বিজেপি নেত্রীর এই পদক্ষেপকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। গোঘাট ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সৌমেন দিগার কটাক্ষের সুরে বলেন, “এটাই আমাদের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল সাফল্য। তিনি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জন্য ভাবেন। বিজেপি নেত্রীর এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পগুলো কতটা সফল ও প্রয়োজনীয়।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ঘটনা গেরুয়া শিবিরের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।