শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টে স্বস্তি! পাক জেল থেকে রিষড়ার ঘরে ফেরা পূর্ণম কি ফিরে পেলেন নিজের উর্দির সম্মান?

বাংলার রিষড়ার ছেলে পূর্ণমকুমার সাউয়ের জন্য গত এক বছর ছিল যেন এক দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষা। গত বছরের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার উত্তাপ কাটেনি, ঠিক তখনই পঞ্জাবের পঠানকোটে ডিউটি চলাকালীন ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন এই বিএসএফ জওয়ান। পাক রেঞ্জার্স তাঁকে তৎক্ষণাৎ আটক করলে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং চললেও পাকিস্তান তাঁকে ছাড়তে টালবাহানা শুরু করে। প্রায় তিন সপ্তাহের টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ২৩ মে নিজের বাড়িতে ফেরেন পূর্ণম।

তবে ঘরে ফিরলেও তাঁর কর্মজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছিল আইনি জটিলতা। নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তে এমন ভুলের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় পরিষেবা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু নিজের ১৭ বছরের গৌরবময় কর্মজীবন হারানো মানতে পারছিলেন না এই জওয়ান। বারংবার আবেদন জানিয়েছিলেন সেনায় প্রত্যাবর্তনের জন্য। অবশেষে সেই লড়াইয়ে জয়ী হলেন তিনি। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ পূর্ণমের কাজের মূল্যায়ন ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বিচার করে তাঁকে পুনরায় ২৪নং ব্যাটালিয়নে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে পূর্ণমের পুনর্বহালের সরকারি চিঠিটি পোস্ট করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ণমকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্ত’ করার মতো কঠোর দণ্ড দেওয়া হচ্ছে না। পরিবর্তে তাঁর সাজা কমিয়ে ‘৩০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড’ (RI in Force Custody) হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, ৩০ দিনের হেফাজত বা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই পূর্ণম আবার দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিজের পুরনো পদে যোগ দেবেন। রিষড়ার ঘরে ঘরে এখন আনন্দের আমেজ, বাংলার বীর সন্তান ফের উর্দিতে ফিরছেন এটাই সবথেকে বড় প্রাপ্তি।