বসন্ত উধাও! দক্ষিণবঙ্গকে টেক্কা দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ, ফেব্রুয়ারিতেই কি তবে পুড়বে বাংলা?

কলকাতা সহ গোটা বাংলায় শীতের আমেজ এখন অতীত। বসন্তের দেখা মেলা ভার, আবহাওয়া যেন শীত থেকে সরাসরি গ্রীষ্মের পথে পা বাড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলার পারদ এখন লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী। দিনের বেলায় রোদের তেজ এতটাই বাড়ছে যে, অনেক ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গকে পিছনে ফেলে দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ।

কলকাতার তাপমাত্রা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
দীর্ঘ ৭৯ দিন পর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামল। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর বা রাতের দিকে সামান্য ঠান্ডা অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়ছে পারদ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিনে তাপমাত্রা একধাক্কায় আরও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। চলতি সপ্তাহান্তেই শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রিতে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সিস্টেম ও নিম্নচাপের প্রভাব:
বর্তমানে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রাজস্থান ও সংলগ্ন পঞ্জাব-হরিয়ানা এলাকায় অবস্থান করছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পশ্চিম ভারতে আরও একটি নতুন ঝঞ্ঝা প্রবেশের কথা। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করবে, যা তাপমাত্রার এই খামখেয়ালি পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

দক্ষিণবঙ্গ বনাম উত্তরবঙ্গ:
আশ্চর্যের বিষয় হলো, দিনের গরমে এখন দক্ষিণবঙ্গকে টেক্কা দিচ্ছে উত্তরবঙ্গ। যেখানে পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৩২.৩ ডিগ্রি, সেখানে বাগডোগরার পারদ পৌঁছেছে ৩৩.৬ ডিগ্রিতে। জলপাইগুড়িতেও তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রির ঘরে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম বা ঝাড়গ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও উপকূলীয় জেলাগুলিতে তা ১৯ ডিগ্রির কাছাকাছি। আগামী সোম ও মঙ্গলবার ওড়িশা সংলগ্ন উপকূলের জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস:
পাহাড়ে হালকা কুয়াশা থাকলেও সমতলে আকাশ মূলত পরিষ্কার। আগামী কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। শিলিগুড়ি ও মালদহে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করবে। দার্জিলিং ও কালিম্পং সংলগ্ন এলাকায় শীতের আমেজ থাকলেও সমতলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা শুরু হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।