“আমি না থাকলে পরমাণু যুদ্ধ হতো!” ভারত-পাক লড়াই থামানো নিয়ে ফের বিস্ফোরক ট্রাম্প, ফাঁস করলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই আলোচনা আর প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু। এবার নিজের তৈরি ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পরিষদের উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত নিয়ে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে ট্রাম্প বুক ঠুকে দাবি করেন, গত বছরের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেমেছে শুধুমাত্র তাঁরই হস্তক্ষেপে।

অপারেশন সিঁদুর ও ১১টি যুদ্ধবিমানের রহস্য:
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওতে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারত যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, “সেই সময় দুই দেশই পরমাণু যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। আকাশপথে তুমুল লড়াই চলছিল এবং অন্তত ১১টি দামী যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল।” যদিও এই ১১টি বিমান কোন দেশের বা কোথায় ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

শুল্কের জুজু ও ২.৫ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর দাবি:
ট্রাম্প এদিন আরও দাবি করেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে যুদ্ধ না থামালে দুই দেশের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) চাপানো হবে। ট্রাম্পের কথায়, “টাকার চেয়ে বড় কিছু হয় না। যখন তারা দেখল ব্যবসা বন্ধ হওয়ার জোগাড়, তখনই তারা যুদ্ধ থামাতে রাজি হল।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তাঁর চিফ অফ স্টাফের সামনে স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে অন্তত আড়াই কোটি মানুষের প্রাণ বেঁচেছে।

উল্লেখ্য, ভারত সরকার বরাবরই এই ধরণের তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করে এসেছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের সামরিক স্তরের (DGMO) আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তবুও ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এই যুদ্ধের অবসানকে নিজের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।