তৃণমূলের দাপট নাকি বাম-কংগ্রেসের কামব্যাক? মুসলিম ভোটের পাটিগণিতে উল্টে যাবে কি বাংলার মসনদ?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র মেরুকরণের লড়াই। বিশেষত রাজ্যের ৮৫টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন এখন সব দলের পাখির চোখ। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনগুলিতে তৃণমূলের একতরফা আধিপত্য থাকলেও ২০২৬-এর লড়াইয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলাতে চলেছে? বিগত কয়েক বছরের ভোট পরিসংখ্যান সেই প্রশ্নই উসকে দিচ্ছে।

মুসলিম ভোট ও জেলাভিত্তিক প্রভাব বাংলার পাঁচটি জেলা—মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, বীরভূম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মুসলিম জনসংখ্যা সবথেকে বেশি। মুর্শিদাবাদে ৬৬.৩% এবং মালদায় ৫১.৩% সংখ্যালঘু ভোটার জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক শক্তি। এছাড়াও উত্তর দিনাজপুরে ৪৯.৯%, বীরভূমে ৩৭.১% এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৫.৬% মুসলিম ভোটার রয়েছেন। মোট ৮৫টি আসনে এই ভোটাররাই ঠিক করেন কার মাথায় উঠবে রাজতিলক।

১০ বছরের ইতিহাসের পটপরিবর্তন বিগত এক দশকে বাম ও কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাগুলি তৃণমূলের গড়ে পরিণত হয়েছে।

  • ২০১১ সাল: মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে বাম-কংগ্রেস ছিল অপ্রতিরোধ্য। তৃণমূলের উপস্থিতি ছিল যৎসামান্য।

  • ২০১৬ সাল: প্রথমবার এই দুর্গে ফাটল ধরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ৮৫টি আসনের মধ্যে ৪৬টি জেতে তৃণমূল, আর বাম-কংগ্রেস পায় ৩৮টি আসন। বিজেপি খাতা খুলেছিল মাত্র ১টি আসনে।

  • ২০২১ সাল: যাবতীয় হিসেব উল্টে দিয়ে তৃণমূল ৭৫টি আসন দখল করে। মালদা ও মুর্শিদাবাদ থেকে বাম-কংগ্রেস কার্যত মুছে যায়। বিজেপি নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে মুর্শিদাবাদ ও মালদায় কয়েকটি আসন ছিনিয়ে নেয়।

২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ: মেরুকরণ বনাম উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ৮৫টি আসনের ভোট আর আগের মতো একমুখী নাও হতে পারে। একদিকে বিজেপি যেমন হিন্দু ভোট সংহতি এবং মেরুকরণের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দুর্গ বাঁচাতে মরিয়া। বাম-কংগ্রেস জোট কি পারবে তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে? নাকি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও এবার ভাগ বসাবে নতুন কোনো শক্তি? উত্তর লুকিয়ে আছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যালট বক্সে।