বাংলার সীমান্তে মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ বাড়ছে? বড় দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক ময়দান। এবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং ডেমোগ্রাফি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। বিহারের রক্সৌলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তাঁর নিশানায় ছিল মূলত তৃণমূলের ‘তোষণ রাজনীতি’ এবং রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার ক্রমবর্ধমান মসজিদ-মাদ্রাসা।
‘চার টুকরো’ বিরোধী জোট ও ১৯৪৬-এর দাঙ্গা প্রসঙ্গ গিরিরাজ সিংয়ের দাবি, বর্তমানে রাজ্যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অস্তিত্ব থাকলেও তা বাস্তবে চার ভাগে বিভক্ত। এই অনৈক্যের সুযোগেই গেরুয়া বাহিনীর জয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের সবথেকে বিতর্কিত অংশ ছিল ১৯৪৬ সালের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-র প্রসঙ্গ। গিরিরাজ বলেন, “সে সময় ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও বাংলায় সেই একই ভয় কাজ করছে।” তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজ চরম উদ্বেগজনক এবং একমাত্র বিজেপি সরকারই রাজ্যে শান্তি ফেরাতে পারে।
সীমান্ত এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাঁর কথায়, “সীমান্তবর্তী এলাকায় যেভাবে মসজিদ ও মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়ছে, তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামাত-ই ইসলামির জয়ের নেপথ্যে পশ্চিমবঙ্গের জামাতি যোগসাজশ রয়েছে বলে এর আগেও দাবি করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। গিরিরাজ আজ সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও একতার ডাক তৃণমূলকে তোপ দাগার পাশাপাশি গিরিরাজ সিং জাতপাতের বিভাজন ভুলে হিন্দুত্বের একতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “জাতপাতের ভিত্তিতে বিভাজন হওয়া উচিত নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।” যদিও তাঁর ভাষণের সিংহভাগ জুড়ে ছিল মমতা সরকারের পতন এবং বিজেপির জয়গান।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (SIR) চলছে। আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তালিকা প্রকাশের পরেই রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে যাবে। একদিকে মোদী-শাহ-শুভেন্দুর আক্রমণ, অন্যদিকে মমতা-অভিষেকের পাল্টা প্রতিরোধ— বাংলার মসনদ দখলের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।