কীভাবে ইরানে হামলা চালাবে আমেরিকা? ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর প্ল্যান ফাঁস?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের বারুদ গন্ধে ভারী। আমেরিকা এবং ইরানের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সম্মুখ সমরে রূপ নিতে চলেছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই তেহরানে বড়সড় সামরিক অভিযানের সবুজ সংকেত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়ছিল, কিন্তু এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমেরিকা। লক্ষ্য কেবল পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস নয়, বরং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া।

ট্রাম্পের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: দুই দফার রণকৌশল পেন্টাগন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বাগে আনতে ‘টু-ফেজ’ বা দুই দফার রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব খর্ব করা।

ফেজ ১: সতর্কতামূলক আকাশপথের হামলা (Warning Strike) অভিযানের প্রথম ধাপে আমেরিকা সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়াবে না। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হতে পারে ‘এয়ার স্ট্রাইক’। মূলত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনি, রেভল্যুশনারি গার্ডের সদর দপ্তর এবং সরকারি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানায় হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের বার্তা স্পষ্ট— হয় ইউরেনিয়াম মজুত করা বন্ধ করো এবং হিজবুল্লা-হুথিদের মদত দেওয়া থামাও, নয়তো চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো। এটি হবে একটি ‘ওয়ার্নিং শট’, যা তেহরানকে কোণঠাসা করার প্রথম ধাপ।

ফেজ ২: অল-আউট অ্যাটাক ও ক্ষমতার পরিবর্তন যদি প্রথম দফার পর ইরান নতি স্বীকার না করে, তবে শুরু হবে ‘ফেজ টু’। এই পর্যায়ে মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ক্রুজ মিসাইল সরাসরি আঘাত হানবে ইরানের গোপন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য খামেনেই সরকারের পতন ঘটানো। ১৯৭৯ সালের পর বর্তমান ইরান সরকার সবথেকে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তেহরানে শাসন পরিবর্তনের ছক কষছে হোয়াইট হাউস।

ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগর এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে। যুদ্ধের এই আবহে ব্রিটিশ সরকার বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছুটা সংযত হওয়ার পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। মধ্যপ্রাচ্যের এই রণদামামা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।