রিঙ্কু BJP প্রার্থী হতে চান, দিলীপ ঘোষ বললেন, ‘ওরও তো ইচ্ছে হয়’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চমক বাড়ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। এবার লাইমলাইটে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজনীতির আঙিনায় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে কোমর বাঁধছেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হতে চেয়ে ইতিমধেই বিজেপির রাজ্য দফতরে নিজের বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু।
কী বলছেন দিলীপ ঘোষ? স্ত্রীর এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর কথায়, “ইচ্ছে হয়েছে, আবেদন করেছে। ও আমার থেকেও অনেক পুরনো কার্যকর্তা। আমি সাংসদ-বিধায়ক হয়েছি, ওরও ইচ্ছে হয়েছে প্রার্থী হওয়ার। এতে আপত্তির কী আছে? হাজার হাজার লোক আবেদন করে, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই টিকিট দেবে।” দিলীপবাবুর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, স্ত্রীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি যথেষ্ট ইতিবাচক।
কোন কোন আসনে নজর রিঙ্কুর? সূত্রের খবর, গত ৩১ জানুয়ারি সল্টলেকের বিজেপি দফতরে গিয়ে নিজের বায়োডেটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু মজুমদার। সেখানে তিনি তিনটি পছন্দের আসনের কথা উল্লেখ করেছেন— মেদিনীপুর, বীজপুর এবং নিউটাউন। বায়োডেটাতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কেবল ‘দিলীপ ঘোষের স্ত্রী’ হিসেবে নয়, বরং ২০১৩ সাল থেকে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতাকেই যেন প্রাধান্য দেওয়া হয়।
পুরনো চাল ভাতে বাড়ে: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হারের পর সম্প্রতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক ‘কামব্যাক’ ঘটেছে। এবার রিঙ্কুর এই সক্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, ঘোষ দম্পতি আগামী বিধানসভা ভোটে দলের অন্দরে নিজেদের প্রভাব আরও মজবুত করতে চাইছেন। উল্লেখ্য, রিঙ্কু নিজেও বিজেপির মহিলা মোর্চার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত।
দিলীপ ও রিঙ্কু—দুজনেই কি এবার একসঙ্গে বিধানসভায় যাওয়ার টিকিট পাবেন? সিক্স থেকে সিক্সটি, বঙ্গ রাজনীতির নজর এখন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী তালিকার দিকে।