শওকত বনাম কাইজার: ভাঙড়ে কি তবে রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত? খুনের হুমকির পাল্টা ‘জমি মাফিয়া’ তকমা বিধায়কের!

বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে শাসক দলের অন্দরের বিবাদ চরমে পৌঁছালো। তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ সরাসরি দলেরই হেভিওয়েট বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনলেন। কাইজারের দাবি, তাঁকে সরানোর জন্য বাইরে থেকে ‘সুপারি কিলার’ ভাড়া করেছেন শওকত। এই মর্মে তিনি পুলিশ ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ইমেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন।

কাইজার আহমেদ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমি জীবনহানির আশঙ্কা করছি। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি যে শওকত মোল্লা বাইরে থেকে খুনি ভাড়া করে টাকা পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। সুপারি কিলারদের ভাঙড়ের আশেপাশে কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হাইকোর্টের রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না, আর সেই সুযোগই নিচ্ছেন শওকত। কাইজার ইতিমধ্যেই তাঁর অভিযোগের প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরেও পাঠিয়েছেন।

পাল্টা দিতে ছাড়েননি ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লাও। তিনি কাইজারের এই অভিযোগকে ‘নির্বাচনী নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শওকতের পাল্টা দাবি, “তৃণমূলের নাম ব্যবহার করে জমি কেনাবেচা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কাইজারের বিরুদ্ধে। নিজের কুকীর্তি ঢাকতেই দলের ভাবমূর্তি নষ্টের ছক কষছেন উনি।” বিধায়ক এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভোটের আগে ভাঙড়ের এই আদি-নব্য বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের লড়াই যে তৃণমূল শিবিরের কপালে ভাঁজ ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।