তরুণীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত, ফের গ্রেফতার হলেন হিরো আলম

ফের বিতর্কের শিরোনামে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তবে এবার কোনো গান বা নির্বাচনের জন্য নয়, সরাসরি ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সিনেম্যাটিক কায়দায় গ্রেফতার: বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানিয়েছেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিরো আলমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর থেকেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। আজ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মহাসড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে তাঁর গাড়ি থামানো হয় এবং তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগের পাহাড়: মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাদিয়া রহমান মিথিলা নামে এক তরুণীকে ‘নায়িকা’ বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন হিরো আলম। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনৈক মৌলভি ডেকে ‘কবুল’ পড়িয়ে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, সিনেমা বানানোর নাম করে ওই তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ধার নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে আলমের বিরুদ্ধে।

জোরপূর্বক গর্ভপাত ও নির্যাতন: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে হিরো আলম তাঁকে গর্ভপাতের জন্য প্রচণ্ড চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় গত বছরের ২১ এপ্রিল হিরো আলম ও তাঁর সঙ্গীরা ওই তরুণীকে নৃশংসভাবে মারধর করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বগুড়ার একটি ক্লিনিকে তাঁর গর্ভপাত ঘটে এবং তিনি দীর্ঘদিন শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তদন্তে পিবিআই-এর রিপোর্ট: তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই (PBI) প্রাথমিক তদন্তে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একসময় যে হিরো আলমকে নিয়ে নেটপাড়ায় হাসাহাসি চলত, আজ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগে স্তম্ভিত দুই বাংলার অনুগামীরা।