অষ্টম পে কমিশন: ১৮ হাজার থেকে একলাফে বেতন হবে ৩ গুণ! নতুন ফর্মুলায় ভাগ্য ফিরছে কোটি কোটি কর্মীর

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য ২০২৬ সালের শুরুটা এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই দেশজুড়ে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত ৩.২৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) যদি সরকার গ্রহণ করে, তবে সরকারি কর্মীদের বেতন পরিকাঠামোয় এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটবে।

বর্তমানে সপ্তম পে কমিশনের অধীনে একজন কর্মীর সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। যদি ৩.২৫-এর নতুন গুণক বা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে সেই বেতন সরাসরি বেড়ে হতে পারে ৫৮,৫০০ টাকা। মূলত মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনসহ (FNPO) একাধিক সংগঠন এই দাবি জানিয়েছে।

সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর একনজরে ঝলক: অ্যাক্রয়েড ফর্মুলার (Aykroyd Formula) ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে বিভিন্ন স্তরে বেতন বৃদ্ধি হবে আকাশচুম্বী:

  • লেভেল ১ (সর্বনিম্ন): ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ৫৮,৫০০ টাকা।

  • লেভেল ৫: বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮৭,৬০০ টাকায়।

  • লেভেল ১০ (গেজেটেড অফিসার): মূল বেতন হতে পারে প্রায় ১.৭৩ লক্ষ টাকা।

  • লেভেল ১৮ (সর্বোচ্চ): ক্যাবিনেট সচিব পর্যায়ের বেতন ৮.১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ইনক্রিমেন্ট ও পেনশনে বড় বদল: কেবল মূল বেতন নয়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার বর্তমান ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করার জোরালো দাবি উঠেছে। এর সুফল পাবেন পেনশনভোগীরাও। তাঁদের ন্যূনতম পেনশন ৯,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫০০ থেকে ২৫,৭৪০ টাকার মধ্যে হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অষ্টম পে কমিশনের খসড়া কমিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে। আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত কর্মীরা তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কয়েক কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি।