ওঁর কথাতেই ইয়েস স্যার বলতে হবে, তবে পদোন্নতি’, সিপিএম-এর ‘খাস লোক’দের নিয়ে বিস্ফোরক প্রতীক উর!

সিপিএম-এর অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। দলের রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করার পর এবিপি আনন্দ-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুললেন তরুণ তুর্কি নেতা প্রতীক উর রহমান। তাঁর নিশানায় সরাসরি দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা নেতৃত্ব। প্রতীকের সাফ কথা, বর্তমান সিপিএম-এ কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, কেবল নেতৃত্বের শেখানো বুলি আউড়ালে তবেই পদোন্নতি সম্ভব।

লবিবাজি ও ডায়মন্ড হারবার প্রসঙ্গ: প্রতীক উর রহমানের দাবি, তিনি তথাকথিত লবিবাজির শিকার। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনে এক নেতার কথা মতো হাত না তোলায় তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমায় বলা হয়েছিল অমুক নেতার পক্ষে হাত তুলতে হবে, নইলে ডায়মন্ড হারবারে কাজ করতে দেওয়া হবে না। আমি শেখানো বুলি আউড়াতে আসিনি। তার ফলস্বরূপ আজ দু-বছর আমায় লোকসভার কোনো মিটিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয় না।” মাইনরিটি ইস্যু নিয়ে সভাতেও তাঁকে বক্তা হিসেবে ডাকা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

সৃজন ভট্টাচার্য ও বাংলা বাঁচাও যাত্রা: দলের অভ্যন্তরে প্রতীকের অন্যতম বড় প্রশ্ন ছিল সৃজন ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, “বাংলা বাঁচাও যাত্রার তালিকায় যখন দেখলাম সৃজন ভট্টাচার্যের নাম নেই, আমি অবাক হয়েছিলাম। একশোটা প্রতীক উর জন্ম নিতে পারে, কিন্তু সৃজনের মতো গভীরতা আর শব্দের দখল থাকা ছেলে বহু দশকে একজন জন্মায়। সেই ছেলেটাকে কেন ব্রাত্য রাখা হলো?” এই অপ্রিয় প্রশ্নগুলো করার কারণেই তাঁকে রাজ্য সম্মেলনে ‘ডেলিগেট’ পর্যন্ত করা হয়নি বলে আক্ষেপ প্রতীকের।

‘ইয়েস স্যার’ সংস্কৃতি ও মহম্মদ সেলিম: রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে প্রতীক বলেন, “রাজ্য সম্পাদক কিছু খাস লোকের পরিমণ্ডলে আবদ্ধ থাকেন। ওঁর কথাই তাঁদের কথা হয়। ইয়েস স্যার বললে তবেই পদোন্নতি হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকের ক্ষেত্রেও তাই। এই দ্বিচারিতা আর স্বার্থান্বেষী মানসিকতা আমি মেনে নিতে পারছি না।” কমিউনিস্ট পার্টির যে আদর্শের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো মিল নেই বলেই অভিমত তাঁর।