‘কয়েক দশকে একটা সৃজন আসে, দল তাকে ব্যবহারই করল না’, আলিমুদ্দিনকে বেনজির তোপ প্রতীক উরের!

বঙ্গ রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সিপিআইএম-এর প্রাক্তন যুব নেতা প্রতীক উর রহমান। বুধবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ইস্তফা দেওয়া এই নেতার সঙ্গে আর কোনও আলোচনা বা যোগাযোগের পথে হাঁটবে না দল। কার্যত প্রতীক উরের জন্য সিপিএম-এর দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। এই চরম আবহেই News 18 Bangla-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করলেন প্রতীক। নিশানায় রাখলেন খোদ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে।
সৃজন ভট্টাচার্য কি দল ছাড়ছেন? অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, প্রতীকের পথে কি তাঁর বন্ধু সৃজন ভট্টাচার্যও হাঁটবেন? জবাবে প্রতীক উর বলেন, “সৃজন আমার মতো পদক্ষেপ কখনওই করবে না। সৃজন থার্ড জেনারেশন কমিউনিস্ট। কয়েক দশকে একটা সৃজন ভট্টাচার্য জন্মায়, অথচ দল তাকে ব্যবহারই করল না। প্রতীক উরকে অলিতে গলিতে পাওয়া যাবে, সৃজনকে নয়।” প্রতীকের দাবি, সৃজন, দীপ্সিতা এবং তাঁর মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হয়েছে বারবার, না পেরে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।
মহম্মদ সেলিমকে তীব্র আক্রমণ: প্রতীক উর রহমানের অভিযোগ, মহম্মদ সেলিম নিজের স্বার্থে পার্টি ধ্বংস করছেন। তিনি বলেন, “সেলিম সাহেব হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, অথচ আমার সঙ্গে বসার সময় নেই। কারণ আমি ‘ইয়েস স্যার’ নই। ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমাকে দাঁড় করানো হয়েছিল আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য। আমি প্রস্তুত ছিলাম না, তাও লড়েছি। এখন আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে আমাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তৃণমূল যোগ: তবে কি এবার ঘাসফুল শিবিরে দেখা যাবে প্রতীককে? জবাবে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন তিনি। প্রতীক বলেন, “রাজনীতি ছাড়ব ভেবেছিলাম, কিন্তু এখন টিকে থাকার জন্য একটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার। আমি এখন একটা বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। সময় ইতিহাসের শিক্ষক, সময় সব বলে দেবে। বাঁকটা পেরোলেই আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাব।”