তদন্তের তথ্য থেকে ব্যক্তিগত মতামত— সব কিছুতেই ‘সেন্সর’! লালবাজারের নতুন গাইডলাইনে ঘুম উড়ল পুলিশকর্মীদের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলকাতা পুলিশ কর্মীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স (টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কী পোস্ট করা যাবে আর কী যাবে না, তা নিয়ে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। শৃঙ্খলাপরায়ণ বাহিনী হিসেবে জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতেই এই ‘সোশ্যাল মিডিয়া গাইডলাইন’ আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশিকায় কী কী করা নিষিদ্ধ? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাহিনীর কোনও সদস্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য, গোয়েন্দা রিপোর্ট বা কোনো অপারেশনাল মুভমেন্টের খবর শেয়ার করতে পারবেন না। এমনকি সরকারি যানবাহন, দপ্তর, ইউনিফর্ম, ব্যাজ বা সরকারি প্রতীক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি প্রচার করা যাবে না। ইউনিফর্ম পরে অপেশাদার আচরণ বা নাচ-গানের ভিডিওর ওপর যে পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা থাকছে, তা বলাই বাহুল্য। এছাড়াও সরকারি নীতি বা কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
লালবাজারের কড়া নজরদারি: নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের জন্য কোনোভাবেই সরকারি ইমেল আইডি ব্যবহার করা যাবে না। কোনো পুলিশকর্মী যদি কোনো অনলাইন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করেন, তবে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পোস্ট একবার করলে তা স্থায়ী হয়ে যায়, তাই কিছু আপলোড করার আগে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে।
কেন এই কঠোর নিয়ম? পুলিশের একাংশের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল বা ভিডিও বানানোর প্রবণতা ইদানীং বেড়েছে। এতে বাহিনীর গাম্ভীর্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল বিভিন্ন মহলে। কমিশনারের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো, পুলিশকর্মীদের আচরণ যেন সবসময় পেশাদার এবং সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। এখন থেকে কেবলমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকরাই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি বয়ান দিতে পারবেন।